সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় এক তরুণীকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার মূলহোতা মো. শফিককে (২৪) রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সোমবার (১০ নভেম্বর) গুলশান-১ এর ১৩৭ নম্বর সড়কের এমএস গ্রুপের সামনে থেকে শফিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১১ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন।
গত শনিবার (৮ নভেম্বর) ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণীর মায়ের কাছে আসামিদের ৪ লাখ টাকা পাওনা ছিল। সেই টাকার বিনিময়ে তারা ভিকটিমের মায়ের কাছ থেকে একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছিলেন, যা আসামিদের কাছে ছিল। পরে পাওনা টাকা পরিশোধের পর যখন স্ট্যাম্পটি ফেরত চাওয়া হয়, তখন গ্রেফতারকৃত আসামিরা সহ অন্যান্যরা বিভিন্ন তালবাহানামূলক কথাবার্তা বলে সময় সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ৭ নভেম্বর তারিখ সকাল অনুমান ১১:০০ ঘটিকায় গ্রেফতারকৃত আসামিরা ভিকটিমের মোবাইল ফোনে কল করে জানায় যে, তারা স্বাক্ষরিত স্ট্যাম্পটি ভিকটিমকে দিয়ে দিবে এবং এ বিষয়ে ভিকটিমের মায়ের সাথে কথা হয়েছে। তখন আসামিদের কথামতো দলিলটি আনার জন্য সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সাইনবোর্ড এলাকায় গেলে আসামিদের একজন বলে যে, দলিলটি তার বোনের বাসায় আছে দলিলটি আনতে হলে ঐই বাসায় যেতে হবে। তখন ভিকটিমকে একটি মাইক্রোবাসে উঠতে বললে সরল বিশ্বাসে ভিকটিম মাইক্রোবাসে উঠে। দুপুর অনুমান ১২:৩০ ঘটিকায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন জালকুড়ি দশ পাইপ নামক স্থানে একটি ফাঁকা জায়গায় মাইক্রোবাসটি থামানোর এক পর্যায়ে আসামিরা অতর্কিতভাবে ভিকটিমের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়া যৌনপীড়ন করিতে থাকে। তখন তাদের বাধা প্রদান করিলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হইয়া উঠে এবং এক পর্যায়ে গ্রেফতারকৃত আসামি শফিক অন্যান্য আসামিদের সহযোগীতায় ভিকটিমকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। তৎক্ষণাৎ ঘটনাটি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারিত হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এরই প্রেক্ষিতে,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সদর কোম্পানি নারায়ণগঞ্জের আভিযানিক দল ১০ নভেম্বর রাত ০৮.০০ ঘটিকার সময় ঢাকার গুলশান-১ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি ১। শফিক (২৪), পিতা-আবুল মাতুব্বর, ২। রাশেদ (২২),পিতা-এনায়েত মাতুব্বর, সর্ব সাং-উত্তর গাছুয়া, থানা-মুলাদী, জেলা-বরিশাল, বর্তমান ঠিকানঃ জিগাতলা, থানা-ধানমন্ডি, জেলা-ঢাকাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন।
পড়ুন : ধানের শীষের বিজয়ের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার ফিরে আসবে : মশিউর রনি


