মাত্র নয় বছর বয়সে থেমে গেল ফাতেমা আক্তারের হাসি। উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় ঝলসে গেছে তার স্বপ্ন, তার বাবা-মায়ের সমস্ত আশা। বড় হয়ে ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার।
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার কুনিয়া গ্রামে ফাতেমার বাড়ির আঙিনা জুড়ে এখন শুধুই কান্নার রোল। মেয়েকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা রুপা বেগম। বাবা বনি আমিন নির্বাক চোখে শুধু চেয়ে রয়েছেন মেয়ের কবরের দিকে। অঝোরে কেঁদেই চলেছেন তিনি।

কুয়েত প্রবাসী বনি আমিন মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ জানতে পেরে ঘটনার দিন, রাতেই ছুটে এসেছেন দেশে। কিন্তু মিললো মেয়ের নিথর দেহ। ফাতেমার শরীরের প্রায় ৮০ ভাগ পুড়ে গিয়েছিল, পুড়ে গিয়েছিলো তার মুখন্ডলও। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কুনিয়া গ্রামের কাওমি মাদ্রাসা কবরস্থানে জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে শিশু ফাতেমাকে।
ফাতেমার বাবা বনি আমিন শেখ বলেন, পরিবারের সুখের কথা চিন্তা করে আমি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রবাসে আছি। শুধু মাত্র ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেছি। মেয়েটাকে ভালো স্কুলে ভর্তি করিয়েছিলাম, যাতে মানুষের মতো মানুষ হতে পারে, বড় হয়ে ডাক্তার হতে পারে, মানুষের সেবা করতে পারে। কিন্তু আমার সব শেষ হয়ে গেল। আমার নিষ্পাপ সন্তানের মুখের দিকে তাকাতে পারিনি। ওর মুখটা আগুনে ঝলসে গেছে। বাবা হয়ে এ দৃশ্য আমি কীভাবে মেনে নেব।
কুনিয়া কাওমি মাদ্রাসার শিক্ষক রবিউল ইসলাম বলেন, ফাতেমার মা-বাবার দিকে তাকাতে পারছি না। আর কত মায়ের বুক এভাবে খালি হবে? আমরা কি আমাদের সন্তানদের জন্য একটি নিরাপদ দেশ, একটি নিরাপদ আকাশ দিতে পারবো না? একটি আবাসিক এলাকার ওপর দিয়ে প্রশিক্ষন বিমান চলাচল কতটা নিরাপদ ও যৌক্তিক, সরকারের কাছে আমার প্রশ্ন।


