জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে অবস্থিত জিল বাংলা চিনিকলে চলতি ২০২৫-২৬ আখ মাড়াই মৌসুমে নির্ধারিত ৭০ হাজার টনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৭২ হাজার ৬২০ টন আখ মাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। ৭৮ দিনের লক্ষ্য নিয়ে গত ২৮ নভেম্বর মৌসুম শুরু হলেও বুধবার পর্যন্ত মিলটি চালু ছিল ৮২ দিন। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে চার দিন বেশি চালিয়ে অতিরিক্ত ২ হাজার ৬২০ টন আখ মাড়াই করা হয়েছে।
তবে মাড়াইয়ের সাফল্য সত্ত্বেও চিনি উৎপাদনে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ হয়নি। ৪ হাজার ৯০০ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্য থাকলেও এ পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে ৪ হাজার ৪৮৫ টন। ঘাটতি রয়েছে ৪১৫ টন। নির্ধারিত রিকোভারী হার ছিল ৭ শতাংশ, সেখানে অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ।
মিল কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৪-২৫ মৌসুমে ৭২ হাজার ৬৯ টন আখ মাড়াই করে ৪ হাজার ৫৯২ টন চিনি উৎপাদন হয়েছিল। তখন চিনি আহরণের হার ছিল ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। চলতি মৌসুমে মাড়াই বেশি হলেও রিকোভারী হার কিছুটা কমেছে।
মিলের মহা-ব্যবস্থাপক মো. খালিদ হাসান জানান, মিল এলাকায় এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আখ মাঠে দণ্ডায়মান রয়েছে। চাষিদের উদ্বুদ্ধ করে দ্রুত মিলগেটে আখ সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মৌসুম শেষে চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত কিংবা অতিক্রম করা সম্ভব হতে পারে।
মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম বলেন, মাঠে থাকা আখের পূর্ণাঙ্গ পুনঃজরিপ কার্যক্রম চলছে। জরিপ শেষে জানা যাবে অবশিষ্ট আখের পরিমাণ এবং মিল কতদিন সচল রাখা যাবে। মৌসুম শেষেই চূড়ান্ত হিসাব মিলবে—কেন লক্ষ্যমাত্রা ঘাটতি রইল, নাকি শেষ পর্যন্ত তা পূরণ হলো।
মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) মো. কাওছার আলী জানান, চলতি রোপণ মৌসুমে আখচাষ বেড়েছে ২৯০ একর। গত বছর ৫ হাজার ১০ একর জমিতে আখচাষ হলেও এবার তা বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৩০০ একর। অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখে বেশি মুনাফা পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
আগামী ২০২৬-২৭ মৌসুমে ৭৭ হাজার টন আখ মাড়াই করে ৫ হাজার ৩৯০ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্ভাব্য রিকোভারী হার ধরা হয়েছে ৭ শতাংশ।
মাড়াইয়ে সাফল্যের পরও উৎপাদনে ঘাটতি—এই দ্বৈত বাস্তবতার মধ্যেই মৌসুম শেষের অপেক্ষায় রয়েছে জিল বাংলা চিনিকল। মাঠের আখ মিলগেটে এলে শেষ হাসি হাসতে পারবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
পড়ুন- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদ দিবস ও আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস পালিত


