অজো পাড়া গায়ে বেড়ে ওঠা ফুটবলার আব্দুল হালিম ফুটবলের কসরত দেখিয়ে রেকর্ড গড়েছেন। তিনি মাথার ওপরে ফুটবল, দুই হাত হ্যান্ডেলে। এভাবে টানা ২০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন ৫০ বছর বয়সী ফুটবল খেলোয়াড় মাগুরার আবদুল হালিম। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মাগুরা ইনডোর স্টেডিয়ামে এ কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি।
মাথার ওপরে ফুটবল নিয়ে দুই হাত হ্যান্ডেলে ধরে রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটা, স্কেটিং করা নতুন কোনো ঘটনা নয় তাঁর কাছে। ফুটবল নিয়ে তিনি অর্ধশতাধিক আকর্ষণীয় খেলা দেখাতে পারে।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, ‘দ্য গ্রেটেস্ট ডিসট্যান্স ট্রাভেল্ড অন এ বাইসাইকেল ব্যালান্সিং এ ফুটবল অন দ্য হেড’ বা মাথায় ফুটবল রেখে সাইকেল চালিয়ে সবচেয়ে বেশি দূর যাওয়ার রেকর্ডের মালিক তিনি। এ রেকর্ড গড়তে নিজের রেকর্ডই ভেঙেছেন আবদুল হালিম।

২০১৭ সালের জুন মাসে ঢাকায় ১ ঘণ্টা ১৯ মিনিটে মাথায় বল নিয়ে ১৩ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে গিনেস বুকে রেকর্ড গড়েন তিনি। সাত বছরের বেশি সময় রেকর্ডটি তাঁর দখলেই ছিল। গিনেস বুকে তাঁর নাম প্রথমবার ওঠে ২০১১ সালে।
ঐ বছরের ২২ অক্টোবর ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে বল মাথায় নিয়ে ১৫ দশমিক ২ কিলোমিটার পথ হেঁটে রেকর্ড গড়েন। সেই রেকর্ড অবশ্য এখন হাতছাড়া হয়েছে। তাই দ্বিতীয় দফায় ২০১৫ সালে গিনেস বুকে নাম ওঠে তাঁর।
আবদুল হালিম বলেন, ‘ছোটবেলায় এক গোলকিপারের বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ দেখে এতে আগ্রহী হন তিনি। প্রায় ৩৩ বছর ফুটবল নিয়ে নানা খেলা শিখেছি, ও নিয়মিত চর্চা করি। এটাই আমার পেশা। এটা করতে গিয়ে অন্য কোনো কাজ আর শেখা হয়নি। ৯০ দশকের শুরুতে ফুটবলের কসরত শেখার নেশা তৈরি হয় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করা আবদুল হালিমের। এর পর থেকে এটাই তাঁর পেশা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফুটবলের কসরত দেখিয়ে যে সম্মানী পান, তা দিয়ে কোনোমতে চলে সংসার। আগে যে তিনবার রেকর্ড করেছিলেন, তখন স্পনসর (পৃষ্ঠপোষক) ছিল।নতুন রেকর্ডের স্বীকৃতির পর আবদুল হালিম বলেন, ‘গিনেস রেকর্ড করে দেশের সুনাম বাড়িয়েছি। কিন্তু এর বিনিময়ে তেমন কিছুই পাইনি। একটা রেকর্ড করতে অনেক সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়। পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া আমার মতো মানুষ এটা কীভাবে করবে? আবদুল হালিম যে কসরত ও কৌশল রপ্ত করেছেন, সেগুলো নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান।
তরুণ প্রজন্ম ও এলাকাবাসী আব্দুল হালিমের এমন অর্জনে খুশি ও আনন্দিত। এতে ফুটবল খেলার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে তরুণদের।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মাগুরা ইনডোর স্টেডিয়ামে এ কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। যাচাই–বাছাই শেষে এমাসে এই রেকর্ডের স্বীকৃতি দেয় গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ। গিনেস বুকে নাম লেখানো আবদুল হালিমের বাড়ি মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামে।
মাগুরা জেলা প্রশাসক বলেন, আব্দুল হালিমের অর্জনে তারা আনন্দিত। তার এই অগ্রযাত্রায় পাশে থাকবে ক্রীড়া সংস্থা।
পড়ুন : মাগুরার সেই শিশুটির পরিবারের সহায়তার দায়িত্ব নিল দুই মন্ত্রণালয়


