১৬/০১/২০২৬, ০:১৭ পূর্বাহ্ণ
18 C
Dhaka
১৬/০১/২০২৬, ০:১৭ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

মাদক সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণে বিএনপি নেতা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকের সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ এখন নতুন মাফিয়ার হাতে। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর পুরনো মাফিয়ারা পর্দার আড়ালে চলে যাওয়ায় সিংহাসনে আসীন হয়েছেন নতুনরা। মাদক মাফিয়াদের কেউ কেউ আবার লেবাস নিয়েছেন বিএনপির। তেমনি একজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাদিকুল ইসলাম। তিনি সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের তেররশিয়া গ্রামের মৃত এন্তাজ আলীর ছেলে।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুঃসময়ে বিএনপির রাজনীতিতে না থেকেও ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর বিএনপি নেতা বনে যান। জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতার সঙ্গে সু-সম্পর্ক গড়ে ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ বাগিয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, সাদিকুল চিহ্নিত মাদক কারবারি। তাকে বিএনপি নেতা বানিয়ে মাদক কারবারকে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন বিতর্কিত মানুষকে বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হয়েছে। 

বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধান বলছে, মাদক কারবারি সাদিকুল ইসলাম ‘সাদিয়া ট্রেডার্স’ নামে একটি আমদানি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। তিনি এই সাইনবোর্ড ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। মাদক কারবার করে তিনি এখন কয়েক কোটি টাকার মালিক। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের স্বরুপনগরে করেছেন বহুতল ভবন। রাজশাহী- চাঁপাইনবাবগঞ্জে রয়েছে নামে বেনামে ফ্ল্যাট ও প্লট। পুলিশ বলছে, সাদিকুল ইসলামের মাদকের চারটি মামলা আছে। তবে কোন মামলা বিচারধীন আছে কি না সেটি নিশ্চিত নয়।

জানা যায়, আগস্ট বিপ্লবের পর মাদকের অন্ধকার জগতেও আসে বড় ধরনের পরিবর্তন। বিগত সময়ে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থেকে মাদকের সাম্রাজ্যে ছড়ি ঘুরানো মাদক মাফিয়ারা অনেকই চলে গেছেন পর্দার আড়ালে। অন্যদিকে বিএনপির সাইনবোর্ডে সাদিকুল ইসলাম নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন মাদক সাম্রাজ্য। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শাহজাহানপুর, চরবাগডাঙ্গা, চর আলাতুলী ও গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু মাদক পাচারের চিহ্নিত রুট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো আগের মতো সক্রিয় না হওয়ায় অপ্রতিরোধ্যভাবেই চলছে মাদক পাচার।  

স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, বিএনপির ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হবে বা ইমেজ ক্ষুন্ন হবে এমন লোকের বিএনপি করার দরকার সুযোগ নেই। দলটি এখন জনগণের আস্থা অর্জনের যুদ্ধ করছে। বিএনপির কারো বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

জেলা বিএনপির সদস্য সেলিম চৌধুরী বলেন, সাদিকুল একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। এতদিন তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে মাদক কারবার করেছেন। পট পরিবর্তনের পর এই মাদক কারবারি টাকার বিনিময়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ কিনেছেন। মাদকের গডফাদার বিএনপির নেতৃত্ব পাওয়ায় দলের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

মাদক ব্যবসা করে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও টাকা দিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির পদ কেনার বিষয়ে জানতে একাধিক বার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. মতিউর রহমান বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট কোন দল নেই। দলের প্রভাবে মাদক কারবার চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। মাদক উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার আমরা সর্বদা গুরুত্বের সঙ্গেই করে থাকি। অতীতের মতোই আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।  

পড়ুন: খেলাধুলাই পারে যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে : আরিফুল হক চৌধুরী

দেখুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪ লেন সড়ক নির্মাণ কাজে ধীরগতি, দুর্ভোগে মানুষ |

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন