মাদারীপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ককটেলসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো ইদ্রিস হাওলাদারের বলে দাবি করে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হলেও, বিষয়টি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ তুলেছেন তার বড় ভাই হাবিব হাওলাদার ও স্বজনরা।
ইদ্রিস হাওলাদারের স্বজনদের দাবি, অভিযানের সময় ধারণ করা অন্তত তিনটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওগুলো ভালোভাবে দেখলে বোঝা যায়, অভিযানের সময় সাইদুল সরদারের ছেলে শুভ সরদার (শামচু সরদারের নাতি) ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে অস্ত্র উদ্ধারের কাজে অংশ নিচ্ছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী ফজলু বেপারী জানান, গত ২৪ জানুয়ারি রাত ২টার দিকে যৌথবাহিনী অভিযানে আসেন তাদের বাড়িতে। তবে কিছুক্ষণ সময় ঘরবাড়ি তল্লাশি করে কোন কিছু না পেয়ে চলে যায় অন্যস্থানে সদস্যরা। পরে ইদ্রিস হাওলাদারের বাড়ির আশেপাশের এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণে দেশি অস্ত্র উদ্ধার করেন। কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিউজ প্রচারিত হইছে যে ইদ্রিস হাওলাদারের বাড়ি থেকেই এগুলো উদ্ধার করা হয়েছে কিন্তু আদৌ এগুলো অন্য স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইদ্রিস হালদার ও তার স্বজনদের মান সম্মান হানি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তারা।
অভিযোগে বলা হয়, শুভ সরদার পুলিশ বাদী মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হয়েও কীভাবে যৌথ বাহিনীর অভিযানে উপস্থিত থাকতে পারেন—তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি অভিযানের সময় তিনি সেনাবাহিনীর পোশাক ও হেলমেট পরিহিত অবস্থায় ছিলেন বলেও ভিডিওতে দেখা যায়। তবে তার পায়ে থাকা স্যান্ডেল সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত নয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ইদ্রিস হাওলাদারের স্বজনরা আরও বলেন, ভিডিওগুলোতে শুভ সরদারের কণ্ঠ ও উপস্থিতি স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ ইদ্রিস হাওলাদার ও তার লোকজনকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজানো হয়েছে।
বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে হাবিব হাওলাদারের ভিডিও বক্তব্যে বলা হয়, গত ৩০ ডিসেম্বর সংঘর্ষের পর একটি পুলিশ বাদী মামলা হলে এলাকায় পুরুষশূন্য অবস্থা সৃষ্টি হয়। এমনকি সে সময় নারী সদস্যদেরও আটক করা হয়েছিল। তার দাবি, এমন পরিস্থিতিতে খোলামেলা বালুর মাঠ ও ঝোপঝাড়ে দেশীয় অস্ত্র রাখা স্বাভাবিক নয়। প্রতিপক্ষরা—বিশেষ করে শুভ সরদারের উপস্থিতিতেই—তাদের ফাঁসানোর জন্য ওই স্থানে অস্ত্র রেখে পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করিয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারাও দাবি করছেন, ইদ্রিস হাওলাদারকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই এই ঘটনার অবতারণা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে সে আলোকে মামলা হয়েছে। অভিযানের বিষয়ে জানা নেই।
তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পড়ুন- বাংলায় ধানের শীষে ভোট চাইলেন প্রার্থীর চীনা বংশোদ্ভূত স্ত্রী
দেখুন- বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি দল: তারেক রহমান


