০২/০৩/২০২৬, ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ
22.5 C
Dhaka
০২/০৩/২০২৬, ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

মাদারীপুরে ধান সংগ্রহে অনিয়ম: ৫০ টাকার চালের বদলে ঢুকছে ‘পশু-পাখির খাবার’

খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রতি বছর সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে আমন ধান-চাল ক্রয় করছে সরকার। সাধারণত নভেম্বরের মাঝামাঝিতে শুরু হয়ে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে এ অভিযান।

বিজ্ঞাপন

খাদ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত দামে ধান, সেদ্ধ চাল ও আতপ চাল সংগ্রহ করা হয়। এবার আমন মৌসুমে প্রতি কেজি সিদ্ধ চালের সংগ্রহ মূল্য ধরেছ ৫০ টাকা, আতপ চাল ৪৯ টাকা এবং ধান প্রতি কেজি ৩৪ টাকা মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে সরকারের নির্দিষ্ট হারের চেয়েও মাদারীপুরে সরকারি গুদামে কম দামে নিম্নমানের চাল সংগ্রহের অভিযোগ পাওয়া গেছে জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।


এদিকে চাল ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকার ভালো দাম নির্ধারণ করলেও নিম্নমানের চাল গুদামজাত করা হচ্ছে। সংগ্রহ করা হাইব্রিড চালগুলোর খুচরা দাম প্রতি কেজি ৩০-৩৫টাকা।আর এ চালগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের ‘হাইব্রিড’ চাল, যা সাধারণত পশু-পাখির ফিড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খাদ্য কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, সংগ্রহ করা প্রায় সব চালই ভালো মানের। কিছু চাল এদিক-ওদিক হতে পারে। সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে, তা মেনেই চাল গুদামজাত করা হচ্ছে।


খাদ্য বিভাগের তথ্য বলছে, মাদারীপুর সদর উপজেলায় এ বছর সেদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৬৫ টন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ইটেরপুল খাদ্যগুদামে ৩০০ টন ও চরমুগরিয়া গুদামে ৩৬৫ টন চাল গুদামজাতের নির্দেশনা রয়েছে।
চাল ব্যবসায়ীদের দাবি, পশু-পাখিকে খাওয়ানোর জন্য এ চাল ক্রয় করেন ক্রেতারা। এছাড়া এ চাল দিয়ে হাঁস-মুরগি, পশু-পাখি ও মাছের ফিড তৈরি করা হয়।


চরমুগরিয়া ও ইটেরপুল খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে তাদের উপস্থিতিতে বেশকিছু বস্তার চালের স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়। সেগুলো চাল ব্যবসায়ীদের দেখালে তারা জানান, এমন চাল কোনো ব্যবসায়ী বিক্রি করেন না। এসব চাল বিক্রি করা হয় পশু-পাখির খাবারের দোকানে। এ চাল পশু-পাখি ও মাছের ফিড তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।


ইটেরপুল গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্জয় সাহা বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা মেনেই আমরা চাল সংগ্রহ করছি। মিল মালিকরা হাইব্রিড চালই দিচ্ছেন বেশি। হাইব্রিড চালের দাম কম হলে আমাদের কী করার আছে?’
চাল ব্যবসায়ী মফেজ আলী ও সুজন খান বলেন, ‘এ ধরনের চাল পশু-পাখিকে খাওয়ার জন্য বিক্রি করা হয়। ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে খুচরা বিক্রি হয়।’


চরমুগরিয়া গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ মল্লিক বলেন, ‘আমাদের প্রায় সব চালই ভালো মানের। হয়তো কিছু চাল এদিক-ওদিক হতে পারে। সরকারের নির্দেশনা মেনেই আমরা চাল গুদামজাত করছি।’
এ ব্যাপারে জেলা খাদ্য কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন সাংবাদিকরা কেন খাদ্যগুদামে গিয়েছেন?


নিম্নমানের চাল সংগ্রহের বিষয়ে জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পড়ুন- বরিশালে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের গণসংযোগ

দেখুন- ধামরাইয়ে মাজার পরিদর্শনে প্রেস সচিব

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন