দীর্ঘ ৪৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয় থেকে বারবার নির্যাতন ও মামলার শিকার হয়েছেন। টানা ১৭ বছর নানা চাপ ও প্রতিকূলতার মধ্যেও দল পরিবর্তন না করে নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন। শত নির্যাতন ও মামলা মোকাবিলা করেও শেষ পর্যন্ত দলেই থেকে গেলেন এবং পেলেন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। বলছি মাদারীপুর-২ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী জাহান্দার আলী জাহানের কথা।
গতকাল রাত একটার দিকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হলে জানা যায়, তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই সমর্থক, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার সকালে শহরের চৌরাস্তা এলাকার নিজ বাসভবনে দেখা যায়, শুভেচ্ছা জানাতে ভিড় করছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা। ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
মাদারীপুর দুই আসনের ধানের শীষ মনোনীত বিজয় প্রার্থী জাহান্দর আলী জাহান বলেন, আমি আপনাদের হয়েছি আপনাদের সব সময় কাজে নিয়োজিত থাকবো আপনারা আমাকে বিজয় করেছেন আপনাদের সব সময় স্মরণ করব।
মাদারীপুরের তিন আসনের ফলাফল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ফলাফল ঘোষণা করেন। এতে দুটি আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং একটি আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
মাদারীপুর-১ আসন: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা রিকশা প্রতীকে ৬৪,৯০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তার ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৪,৫২৪ ভোট। জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ৩৮৫ ভোট।
মাদারীপুর-২ আসন: বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া (জাহান) ৬১,৭৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য পেয়েছেন ৪৬,৪৭৬ ভোট।
মাদারীপুর-৩ আসন: বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার ৯৭,২০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৮৭,৩৩১ ভোট।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছাড়া ৫০টি রাজনৈতিক দল।


