আমাজনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মারুবো নামের একটি আদিবাসী সম্প্রদায় নিউইয়র্ক টাইমসসহ আরও দুটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, হাই-স্পিড ইন্টারনেট ব্যবহারের পর সম্প্রদায়টিকে “নীল ছবি আসক্ত” হিসেবে তুলে ধরে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা তাদের সম্মান, সংস্কৃতি ও সামাজিক অবস্থানকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদন, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে ইলন মাস্কের ‘স্টারলিংক’ ইন্টারনেট চালু হওয়ার পর মাত্র ৯ মাসের মধ্যেই মারুবো সম্প্রদায় মোবাইল আসক্তি, সহিংস ভিডিও গেমস এবং নাবালকদের অশ্লীল কনটেন্ট দেখার প্রবণতার মতো সমস্যায় জড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে গোষ্ঠীর এক নেতার উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে তরুণদের মধ্যে আগ্রাসী যৌন আচরণ বেড়েছে।
যদিও প্রতিবেদনে ইন্টারনেটের ইতিবাচক দিক— যেমন স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ ও দূরবর্তী আত্মীয়দের সঙ্গে সংযোগ—ও তুলে ধরা হয়েছে, তবে সম্প্রদায়ের দাবি, তাদেরকে প্রযুক্তির কারণে বিভ্রান্ত ও নৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মামলায় নিউইয়র্ক টাইমস ছাড়াও টিএমজেড ও ইয়াহু নিউজকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বিশেষত, টিএমজেডের একটি প্রতিবেদনের শিরোনামে সরাসরি “নীল ছবির আসক্তি” শব্দ ব্যবহার করে বিতর্ক আরও বাড়িয়ে তোলে।
এর ফলে গোষ্ঠীর নেতা এনোক মারুবো ও মানবাধিকারকর্মী ফ্লোরা ডুত্রা ব্যাপক হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন। তারা মূলত স্টারলিংকের ২০টি অ্যানটেনা বিতরণের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগের প্রসারে সহায়তা করেছিলেন, যা পরবর্তীতে ভুল বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
নিউইয়র্ক টাইমস দাবি করেছে যে তাদের প্রতিবেদন সংবেদনশীল ও তথ্যনির্ভর ছিল এবং প্রযুক্তির আগমনের ফলে ঐতিহ্যবাহী সম্প্রদায়ের মধ্যে কী পরিবর্তন এসেছে, তা তুলে ধরেছে। তবে বিতর্ক প্রশমনের জন্য তারা নতুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও, মারুবো গোষ্ঠীর মতে, প্রথম প্রতিবেদনই তাদের সম্মানহানির কারণ হয়েছে।
এই মামলায় কমপক্ষে ১৮ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। এটি শুধু অর্থের লড়াই নয়, বরং প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকতায় সংস্কৃতির প্রতি সম্মান, তথ্যের দায়িত্বশীলতা এবং উপস্থাপনার ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নও সামনে এনেছে।
এটি মূল ব্লগপোস্টের সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য পুনর্ব্যাখ্যা। চাইলে আমি আরও পরিবর্তন করতে পারি!
এনএ/


