অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। জামিনে মুক্ত হয়ে মামুন আবারও অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আরেক সন্ত্রাসী রনির নির্দেশে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে মামুনকে গুলি করে হত্যা করেন ফারুক ও রবিন।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, মামুন হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন শুটার—ফারুক ও রবিন। অন্য তিনজন হলেন শামীম, রুবেল ও ইউসুফ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, অস্ত্র, অব্যবহৃত গুলি ও নগদ ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এই টাকা রনি ফারুক ও রবিনকে হত্যার পারিশ্রমিক হিসেবে দিয়েছিলেন।
ডিবির প্রধান আরও জানান, গতকাল রাতে ফারুক, রবিন, শামীম ও রুবেলকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যার পর তাঁরা ঢাকা থেকে সিলেট হয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। তবে সীমান্তে প্রবেশে ব্যর্থ হয়ে সাতক্ষীরা হয়ে পালানোর পরিকল্পনা করেন। সিলেট থেকে ফেরার পথে নরসিংদীতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
শফিকুল ইসলাম বলেন, হত্যার পর ফারুক ও রবিন ব্যবহৃত অস্ত্র ও অব্যবহৃত গুলি রনির নির্দেশে রুবেলের হেফাজতে রাখেন। রুবেল ভাড়ায় গাড়ি চালানোর ব্যবসা করেন। পরে রুবেল অস্ত্র ও গুলি ইউসুফের কাছে হস্তান্তর করেন। রুবেলকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর সঙ্গে নিয়ে রায়েরবাজারে অভিযান চালিয়ে ইউসুফকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পেশায় দরজি ইউসুফের ঘরের মেঝে থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ছয়টি গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে ডিবিপ্রধান জানান, একসময়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডের আলোচিত জুটি ইমন-মামুনের দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে ওঠে। রনি, যিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজামুল ইসলাম ইমনের ঘনিষ্ঠ, একাধিকবার মামুনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ফারুকের সহযোগিতায় করা এসব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অবশেষে গত সোমবার হিমেল হত্যা মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে আসেন মামুন। ওই দিনকেই হত্যার জন্য বেছে নেওয়া হয়।
হত্যার বর্ণনায় শফিকুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় রনি তাঁর বাসায় রবিনকে ডাকেন। রনি জানান, তাঁর সঙ্গে ফারুক, সুমন, কামালসহ আরও কয়েকজন থাকবেন এবং মামুনকে হত্যা করবেন। রবিনকে সঙ্গে থাকার প্রস্তাব দেন ও টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেন, এতে রবিন রাজি হন।
ঘটনার দিন সকালে রনি ফোনে সবাইকে আদালত এলাকায় যেতে বলেন। রবিন তাঁর বন্ধু শামীমের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে আদালত এলাকায় গিয়ে হত্যায় অংশ নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে সুমন ও ফারুকের গুলি করার কথা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ফারুক ও রবিন গুলি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, মামুনের গতিবিধি অনুসরণ করে কামাল ফারুক ও রবিনকে খবর দেন। সংকেত পেয়ে তাঁরা গুলি চালিয়ে মামুনকে হত্যা করেন। এরপর বেড়িবাঁধ হয়ে রায়েরবাজারে গিয়ে রনির নির্দেশে অস্ত্র ও গুলি ইউসুফের কাছে রাখেন। পরে রনির নির্দেশে রুবেল ফারুক ও সুমনকে দুই লাখ টাকা দেন। তাঁরা ওই টাকা সমানভাবে ভাগ করে নেন।
পড়ুন: যমুনার সামনে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা জামায়াতসহ সমমনা ৮ দলের
আর/


