নরসিংদী সদর উপজেলায় মেহেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মাহবুবুল হাসান মাহবুবের ১ম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৮ মে মাহবুবুল হাসানকে প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। তিনি তৎকালীন সময়ে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দীর্ঘ ১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচারের আশায় দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি। আজকের এই দিনটিতে স্বজনদের আর্তনাদে নতুন করে নরসিংদী বাসীকে মনে করিয়ে দিয়েছে জনপ্রিয়তাই কাল হয়েছিল তরুন এ রাজনৈতিক নেতা মাহবুবুল হাসান।
মেহেরপাড়া ইউনিয়নের ভগীরথপুর গ্রামে তারবাড়িতে দেখা গেছে, বাবা’র ছবি বুকে নিয়ে শোকে পাথর হয়ে যাওয়া শিশু ওয়াদিয়া। এক ফোঁটা শব্দ নেই মুখে, নেই কান্নার কোন আওয়াজ। তবু তার চোখ দুটো যেনো চিৎকার করে বলছে, “আমার বাবা কোথায়?” পাশে ৬ বছরের ছোট বোন মেহেরিন ও তার মায়ের কোলে মাত্র এক বছরের ছোট বোন আইয়া। এভাবেই ছবি নিয়ে বাবার জন্য অপেক্ষায় থাকেন এই অবুঝ শিশুরা। তাদের ছোট্ট দুনিয়া ভেঙে খানখান হয়ে গেছে এক নির্মম খুনে।
এই বয়সে যাদের হাতে বই-খাতা থাকার কথা, তারা আজ শিখছে মৃত্যুর সংজ্ঞা। শিখছে হারানোর ভয়াবহতা। আর মাত্র এক বছরের দুধের শিশু আইয়া, বাবা কি জিনিস, সেটা বুঝার আগেই সন্ত্রাসীরা কেড়ে নিলো তাদের বাবা মাহবুবুলকে।
হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা তুলে ধরেন তার ছোট ভাই হাফিজুল হাসান বলেন, ‘আমার ভাইকে ১০-১৫ টি পিস্তল দিয়ে গুলি ও জবাই করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। শুধু জনপ্রিয় হওয়ার কারণেই এমন নির্মমতা। তিনি এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে করতে নিজের সন্তান ও পরিবারকেও সময় দিতে পারেন নি। হত্যার পর বিচার না হওয়ায় ও আসামিরা জামিনে বেরিয়ে যাওয়ায় এভাবে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনা বেড়েই চলেছে’।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাহবুবুল হাসানের মেয়ে ওয়াদিয়া বলেন, ‘যারা আমাদের ৩ বোনকে এতিম করেছে। আমার বাবাকে যতটা কষ্ট দিয়ে হত্যা করেছে আল্লাহ যেনো তাদেরকে আরো বেশি কষ্ট দিয়ে দুনিয়া থেকে নেন’।
দ্রুত মাহবুবুল হাসানের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার ও এলাকাবাসী।
বুধবার (২৮ মে) মাহবুবুল হাসানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কোরআন খতম, ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও মিলাদ এবং বিণামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প করা হয় তার নিজ গ্রামে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

