০৯/০২/২০২৬, ১৯:৩৫ অপরাহ্ণ
23 C
Dhaka
০৯/০২/২০২৬, ১৯:৩৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

মিলিয়ন ডলারের প্রতিযোগিতা নিয়ে বিতর্কে এক্স

ইলন মাস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স আবার বিতর্কে। একটি লেখালেখির প্রতিযোগিতার ফল ঘোষণা ঘিরে উঠেছে বড় প্রশ্ন। এক্স বলেছিল, লেখায় রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বক্তব্য থাকা চলবে না। কিন্তু বিজয়ীদের তালিকা বলছে ভিন্ন কথা।

বিজ্ঞাপন

এক্স তাদের “আর্টিকেলস” ফিচার প্রচারের জন্য এই প্রতিযোগিতা চালু করেছিল। মোট পুরস্কার ছিল কয়েক মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে এক ব্যবহারকারীকে। যিনি আগে বর্ণবাদী ও চরমপন্থী পোস্ট করেছেন।

বিজয়ী ব্যবহারকারীর আইডি @beaverd। তার লেখার শিরোনাম ছিল ডেলয়েট নামের একটি বড় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগভিত্তিক বিশ্লেষণ। প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ব্যয় কমানোর আলোচনাও চলছিল।

ঘোষণার আগেই ইলন মাস্ক ওই লেখায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তিনি এক জায়গায় লিখেছিলেন, “উদ্বেগজনক।” আরেক পোস্টে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু এই ব্যবহারকারীর পুরোনো পোস্টগুলো নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে। সেখানে অভিবাসী বিদ্বেষী মন্তব্য আছে। শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী সুরও পাওয়া যায়। এমনকি একটি পোস্টে হিটলার নিয়ে আপত্তিকর সমর্থনমূলক মন্তব্যও ছিল।

এই বিষয়গুলো নিয়ে এক্স বা ওই ব্যবহারকারী— কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব দেয়নি। শুধু প্রধান পুরস্কার নয়, অন্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকাও নজর কাড়ছে। অনেকের লেখায় ডানপন্থী রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট। সংস্কৃতি যুদ্ধ, অভিবাসন, বর্ণ ইস্যু— এসবই ছিল আলোচনায়।

একজন সম্মানসূচক পুরস্কার পেয়েছেন এমন একটি লেখার জন্য যেখানে বলা হয়েছে পশ্চিমা বিশ্ব দাসপ্রথা শেষ করেছে। ইলন মাস্ক আগে প্রকাশ্যে এই লেখার প্রশংসা করেছিলেন।

আরেকজন পুরস্কার পান মিনেসোটায় সোমালি পরিচালিত ডে-কেয়ার সেন্টার নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ তোলার জন্য। কিন্তু স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আগেই বলেছিল, তদন্তে বড় কোনো অনিয়ম মেলেনি।

৫ লাখ ডলারের রানারআপ পুরস্কারও গেছে এমন এক ব্যবহারকারীর কাছে, যিনি ট্রাম্পের শুল্কনীতি বিশ্লেষণ করেছেন। তার সঙ্গেও মাস্কের একাধিক প্রকাশ্য অনলাইন যোগাযোগ আছে।

আরেক পুরস্কারজয়ী লেখক গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহের ব্যাখ্যা দেন। মাস্ক আগে লিখেছিলেন, গ্রিনল্যান্ডের মানুষেরা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চাইতে পারে।

অবশ্য সব লেখাই রাজনৈতিক ছিল না। কেউ আবহাওয়া নিয়ে লিখে পুরস্কার পেয়েছেন। কেউ ব্যক্তিগত মনোযোগ বাড়ানোর কৌশল নিয়ে লিখেছেন। তবু সমালোচকদের প্রশ্ন একটাই। যখন নিয়মে রাজনীতি নিষিদ্ধ, তখন এত রাজনৈতিক লেখা পুরস্কার পেল কীভাবে?

এই প্রতিযোগিতা হয়তো শেষ, কিন্তু বিতর্ক শেষ নয়। এক্স ইতিমধ্যে নতুন আরেকটি প্রতিযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে। সুপার বোল উপলক্ষে ভিডিও বিজ্ঞাপন বানিয়ে জেতা যাবে বড় অঙ্কের পুরস্কার।

তবে সমালোচকেরা বলছেন, কনটেন্ট যাচাই ও নীতিমালার প্রয়োগ নিয়ে এক্সের অবস্থান এখনো অস্পষ্ট। মাস্কের ব্যক্তিগত মতের সঙ্গে মিলে যায়— এমন কনটেন্ট কি বেশি সুবিধা পাচ্ছে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে প্রযুক্তি দুনিয়ায়।

পড়ুন:স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নেবেন বাংলাদেশী আবু মিরন

দেখুন:লুকিয়ে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে চাই: নাহিদ

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন