বিজ্ঞাপন

মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্টীয় গার্ড অব অনার না দিয়েই দাফন

বীর মুক্তিযোদ্ধার কপালে শেষ বিদায়ে জুটলো না গার্ড অব অনার। শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা শিরাজুল ইসলাম মালত(৭৫) মৃত্যুর পর গার্ড অব অনার পেলেন না। জেলা থেকে পুলিশের টিম না আসায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহীনির রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার ছাড়াই তার লাশ দাফন করতে হয়েছে। সোমবার(১৬ মার্চ) দুপুরে দেড়টার দিকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা ডিএমখালি মোল্যা কান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সচেতন মহলে বইছে সমালোচনার ঝড়। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ বিদায়ে গার্ড অব অনার না দেয়ায় পরিবারের ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞাপন

ডিএমখালি ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত আব্দুর রহমান মালতের ছেলে শিরাজুল ইসলাম মালত। তিনি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা।

পরিবার সুত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ঢাকায় শনির আকরার পলাশপুরে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিরেন তিনি। পরে গতকাল রোববার কাকরাইলে অরোরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর তিন ছেলে রেখে যান তিনি।

স্থানীয় বীরমুক্তি যোদ্ধা গিয়াসউদ্দিন বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধা ৯ মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। আজকে জেলা থেকে পুলিশ না আসায় পুলিশী গার্ড অব অনার দেয় হয়নি আমার সহযোদ্ধাকে।আমরা এমন অপমান আশা

করিনি।

মুক্তি যোদ্ধার সন্তান শামীম আজাদ বলেন, আমাদের শিরাজুল চাচার শেষ দাফনের সময় রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার দেয়া হলো না।আমরা মর্মাহত। তবে এই ব্যর্থতার দায় কে নেবে।আমরা এর সঠিক তদন্ত করে বিচারের দাবি করি।

নিহত মুক্তি যোদ্ধার ছেলে মাসুম মালত বলেন, বাংলাদেশের একজন মুক্তি যোদ্ধা আমার বাবা আমি গর্ববোকরি। তবে রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনার পেল না। আমাদের এগারোটা বাজে জানাজা হওয়ার কথা এবং গার্ড অব অনার দেওয়ার কথা। এসিল্যান্ড মহোদয় নিজে সময় মত চলে এসেছেন। কিন্তু জেলা থেকে পুলিশের টিম আসতে দেরি করায় দেড় টা বাজে লাশে দুর্গন্ধ ছড়ায বিধায় লাশ দাফ করে ফেলা হয়। এখানে জেলা পুলিশের পুরোপুরি অবহেলা ছিল। তারা বারবার আসতেছি বলে আর আসেনি। আমরা দুই ঘন্টা তিন ঘন্টা অপেক্ষা করেছি। তাই আমার বাবার মত অন্য কারো যাতে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বিষয় অবহেলা করা না হয় সরকারের কাছে দাবি জানাই।

ভেদেরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এম রাফসান রাব্বি বলেন, ইউএনও স্যারের অনুমতি সাপেক্ষে আমি সেখানে মরহুম মুক্তিযোদ্ধার জানাযা ১১ টায় চলে যাই। কিন্তু জেলা থেকে পুলিশ আসেনি বিধায় গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই সখিপুর থানার ওসি ও আমি রাষ্টীয় সম্মাননা দিয়েছিলাম। পরে লাশ দাফন দেয়া হয়।

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মহিদুল ইসলাম বলেন, আমি ও এসিল্যান্ড ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানিয়েছি। সেনাবাহিনী গার্ড অব অনার দিয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন,পুলিশ কোন মুক্তিযোদ্ধা দাফন সম্পন্ন সময়ে গার্ড অব অনার দিতে কোন অবহেলা করে না। তবে এখানে ঘটনাটা যদি এমন থাকে তা আমি বিষয়টা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

পড়ুন:ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে একই পরিবারের ৩ জন নিহত

দেখুন:প্রতারণার শিকার হয়ে নিজেই শুরু করেন প্রতারণা

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন