বিজ্ঞাপন

মুজিবনগরের সঙ্গে শেখ মুজিবের কোনো সম্পর্ক নেই : মনির হায়দার

মুজিবনগরের সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই-এমন মন্তব্য করে নতুন আলোচনার জন্ম দিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের তিনটি সংবিধানকে ঐক্যবদ্ধ করে নতুন একটি জাতীয় বিধান রচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৈদ্যনাথতলা বা ভাবেরপাড়ায় যে ঐতিহাসিক ঘটনাটি ঘটেছিল, সেখান থেকেই বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। পরে সেই স্থানটির নাম দেওয়া হয় মুজিবনগর। শেখ মুজিবুর রহমান দেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি, তার অবদান অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো—তিনি কোনোদিন মুজিবনগরে আসেননি। তার সঙ্গে এই স্থানের সরাসরি কোনো সংযোগ নেই। তাহলে জায়গাটির নাম কেন মুজিবনগর রাখা হলো? এটি হতে পারত ‘মুক্তিনগর’—যেখানে জাতির মুক্তির সংগ্রামের পথচলা শুরু হয়েছিল।

তিনি বলেন, একটি ব্যক্তির নামে নামকরণ হয়েছে, যিনি এখানে কখনো আসেননি—এটা নিয়ে মেহেরপুরবাসীকে ভাবতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার রক্তের বিনিময়ে দেশ নতুন করে মুক্ত হয়েছে। সেই সময়ের ফ্যাসিবাদী পরাজিতরা যেন আবার মাথাচাড়া দিয়ে না ওঠে, সেজন্য সজাগ থাকতে হবে। এখনো তারা অর্থের জোগান দিয়ে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদের লক্ষ্য দেশকে আবারও ফ্যাসিবাদের পথে ঠেলে দেওয়া। তারা অর্থনৈতিকভাবে এখনও শক্তিশালী এবং সংগঠিত।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় গাংনী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয় উপজেলার সমস্যা ও সম্ভাবনা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন গাংনী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন, গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল হক, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, গাংনী বাজার কমিটির সভাপতি সালাউদ্দিন শাওনসহ বিভিন্ন শিক্ষক প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সভায় বক্তারা উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা যেমন—চাষাবাদের জন্য পানির সংকট, শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, শিল্পায়নের অভাব, রাস্তার বেহাল দশা ও যুবকদের কর্মসংস্থানের অভাব তুলে ধরেন।

মনির হায়দার আশ্বাস দেন, এই সব সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

সভা শেষে তিনি উপস্থিত সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং গাংনী উপজেলা প্রশাসনের সক্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থন দিবস উপলক্ষে মেহেরপুরে প্রতিকী ম্যারাথন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন