লোকালয়ে চুন প্রস্তুতের ভাটা থেকে নির্গত ধোয়া ও রাসায়নিক কার্বন থেকে বিষাক্ত বাতাসে অতীষ্ঠ দিন যাপন করছেন
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সরকারপাড়া মাহমুদাবাদ এলাকার প্রায় ৫ হাজার বাসিন্দা ও স্কুল শিক্ষার্থীরা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ উপজেলা প্রশাসনকে জানালে লোকালয় থেকে ভাটা সরিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেয় হয়।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় , মুড়াপাড়ার সরকারপাড়া ও মাহমুদাবাদ গ্রামের সংযোগস্থলে স্থানীয় বাসিন্দা হাসিব জামালগংদের জমিতে ভাড়াটিয়া হিসেবে অজ্ঞাত ব্যক্তির মালিকায় পরিচালিত হচ্ছে রংকাজে ও পান দিয়ে খাবারের চুন৷ বড় চুল্লী ব্যবহার করে কখনো দিনে কখনো রাতে আগুনে পোড়ানো হচ্ছে কাঁচা চুনা পাথর। ১১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানার ফটকে এই প্রতিবেদক অবস্থানকালে ২জন শ্রমিককে পাওয়া যায়৷ তাদের পরিচয় জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করে নিজেদের ভাড়াটিয়া শ্রমিক বলে দাবী করেন।
চুনেরভাটায় সৃষ্ট ধোঁয়া ও রাসায়নিক বিষাক্ত ঝাজালো গন্ধে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ডাক্তার আলমগীর হোসেন বলেন, লোকালয়ে চুনের ভাটার কারনে মাহমুদাবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা সরাসরি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এতে পরিবেশ দূষণ (ধোঁয়া, গ্যাস), কৃষিজমির ক্ষতি, এবং মানব স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। অপরিকল্পিত ও নিয়মবহির্ভূত ভাটার কারণে ক্ষতিকর ধোঁয়া ও কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়, মাটি দূষিত হয়, এবং শ্রমিকদের শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
সরকারী সহিতুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আল আমিন মিয়া বলেন, মাহমুদাবাদ সরকারি স্কুলের পাশেই চুনের
ভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও গ্যাস (যেমন কার্বন ডাই অক্সাইড) বায়ুমণ্ডলে মিশে বায়ু দূষণ ঘটায়। আবার চুনের প্রক্রিয়াকরণের ফলে সৃষ্ট বর্জ্য পদার্থ পানি দূষিত করছে। খাল দিয়ে নদীতে পড়ছে। পাশাপাশি আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের রোগ এবং অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। তাই আমরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছি।
স্থানীয় বাসিন্দা শিপলু বলেন, মোম, কয়েল কারখানা করার কথা বলে টিনের প্রাচীর করে পাথরের চুন জ্বালানো হচ্ছে। এটা আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। মাঝে মাঝে চুনের ক্ষারীয় উপাদান আমাদের ত্বকের সংস্পর্শে এলে জ্বালাপোড়া ও অন্যান্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। আমরা চাই অবিলম্বে এখান থেকে চুনের কারখানা সরিয়ে নেয়া হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, লোকালয়ে জনগণের ক্ষতি হয় এমন কোন প্রতিষ্ঠান হতে পারে না। নিয়মহলো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব ও উন্নত প্রযুক্তির ভাটা স্থাপন করা, যা দূষণ কমায়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত উচ্চতার তথা ১২০ ফুট চিমনি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তবে চুন ভাটার বিষয়টি জানলাম, আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।
পড়ুন: তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকে উপজেলা-থানায় ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের সিদ্ধান্ত
আর/


