মুন্সীগঞ্জে দৈনিক আমাদের সময়ের সাংবাদিক নাদিম হোসাইনকে (৩০) মেরে লাশ ঘুমের হুমকি দিয়েছে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলের ছেলে ও যুবদল কর্মী সুজন সরকার। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ হুমকি ধামকির ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক নাদিম হোসাইন তিনি মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার চরকিশোরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। হুমকির ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় সাধারণ ডায়রি করেছেন সাংবাদিক নাদিম।
অভিযুক্ত সুজন সরকার পৌরসভার দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকার সাবেক কাউন্সিলর নাছিমা আক্তারের ছেলে। সুজন আ.লীগের সময় নিজেকে যুবলীগ কর্মীর পরিচয় দিলেও সরকার পতনের পর যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অন্যায় অপকর্ম করে চলেছে।
সাধারণ ডায়রি ও ভুক্তভোগী সাংবাদিক সুত্রে জানাযায়, গত পাঁচ বছর আগে শহরের শ্রীপল্লী এলাকার তাহমিনা পারভীন নামে এক নারীর কাছ থেকে টং দোকান করার জন্য জায়গা ভাড়া নেন নাদিম ও তাঁর বাবা কাজিম উদ্দিন। সে দোকানের জায়গার জন্য মাসিক ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধের মাধ্যমে নাদিমের বাবা চায়ের ব্যবসা করে আসছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর যুবদল কর্মী সুজন দোকানের জায়গাটি নিজেদের দাবী করে নাদিমদের দোকান ভেঙে দিতে চায়। পরবর্তীতে দোকানের জন্য নাদিমের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা চাঁদা নেয় সুজনরা। গত ৬ মাস আগে নাদিমরা দোকানের জায়গা ছেড়ে দিতে চান। তাহমিনারাও সে জায়গা অন্যত্রে ভাড়া দিয়ে দেন। সোমবার রাতে বর্তমান ভাড়াটিয়ারা নাদিমদের টং দোকান সরিয়ে নিজেদের দোকান তোলেন। এতে সুজন ও তাঁর মা নাসিমা আক্তার সীমা। মঙ্গলবার নাদিমকে ফোনের মাধ্যমে প্রেসক্লাবের সামনে ডেকে আনেন। সে সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, মেরে ফেলারও হুমকি দেয়।
সাংবাদিক নাদিম জানান, জোর করে ১৫ মাস ১০০০ টাকা করে চাঁদা নিয়েছে সুজন। আমরা বাবা আর পারছিলেন না। আমরা দোকান ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলতেই মালিকরা অন্যজনের কাছে ভাড়া দিয়েছে। সুজনরা ভাবছে এগুলোর সঙ্গে আমরা জড়িত তাই আমাদের মেরে ফেলতে চাইছে।
নাদিম হোসাইন আরও বলেন, আমি সুজনদের এলাকা দিয়ে নিয়মিত বাড়িতে একা যাতায়াত করি। সুজন একজন নেশাগ্রস্ত মানুষ। সে যে কোনো সময় যে কোনো ঘটনা ঘটতে পারে। আমি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমার নিরাপত্তা দাবি জানাচ্ছি।
সেইসঙ্গে সুজন যুবদল কর্মীর পরিচয় দেয়, তার দলের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও এই ব্যাপারটার বিচার চাচ্ছি।
এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর নাসিমা আক্তার সিমা বলেন, নাদিমের বাবা যে দোকানটি ভাড়া চালাচ্ছিল এটির মালিক আমরা। ওর বাবা যার কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে দোকান চালাচ্ছিল তারা অবৈধ। দোকানটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য নাদিমকে বলা হয়। এরমধ্যে আরেকজন এসে নাদিমের দোকান ভেঙ্গে আরও একটি দোকান নির্মান করে। এতে আমার ছেলে সুজন নাদিমের সাথে রাগারাগি করে। মেরে ফেলার হুমকি দেয়নি।
এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজীব দে বলেন, একজন সাংবাদিকে হুমকি-ধমকির বিষয়ে সাধারণ ডায়রি পেয়েছি।তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন : মুন্সীগঞ্জে যুবদলনেতার পদ স্থগিতের প্রতিবাদে কিলোমিটার জুড়ে মোমবাতি প্রজ্বলন


