মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নে পাকাস্থাপনা নির্মাণ করে জায়গা দখল করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ভুমিদস্যু বিএনপি নেতা গোলাম মর্তুজা সরকার এবং তাঁর ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়নটির সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা গোলাম মর্তুজা সরকার এবং তাঁর ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন সরকার বাবুরা জায়গা দখল করছেন।
স্থানীয়রা জানান, পদ্মা তীরের বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাংলাবাজারের জায়গা দখল করে কিছুদিন ধরে পাকা স্থাপনা নির্মান কাজ চলছে। তবে যতদুর জানি এ জায়গার প্রকৃত মালিক দেলোয়ার হোসেন। গোলাম মর্তুজা সরকার বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা।
কাগজপত্র থেকে জানা গেছে, বাংলাবাজারের চরবানিয়াল মৌজার ৯৩০ নম্বর দাগে ৮৯ শতাংশ ও ৯২৯ দাগে ৭৯ শতাংশ জায়গার মালিক হচ্ছেন দেলোয়ার হোসেন।

সম্প্রতি ওই সম্পত্তির দখল নেয় গোলাম মর্তুজা সরকাররা। এরপর সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন। এতে আদালতে দ্বারস্ত হন দেলোয়ার হোসেন। পরে ২৯ এপ্রিল সদর সিনিয়র সহকারি জজ আদালত সেখানে স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন। তথাপি সাবেক ওই ইউপি চেয়ারম্যান নিজে অবস্থান নিয়ে পাকা স্থাপনা নির্মাণ কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জায়গার মালিক দাবী করে দেলোয়ার হোসেন বলেন, পৈত্রিক সূত্রে আমি ওই জায়গার মালিক। তবে আমার আমার জোত বা শরীকের কাছ থেকে অন্যত্র কিছু পরিমান জায়গা কিনেছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। অথচ আমার ৯২৯ ও ৯৩০ দাগের সম্পত্তিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন তিনি। তার ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুর নেতৃত্বে স্থাপনা নির্মাণ কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের চক্ষু রাঙ্গিয়ে বলেন, এটা বাংলাবাজার। আমি সাংবাদিকদের সামনে কিছু বলবো না। তবে সাংবাদিকদের জোরালো জিজ্ঞেসের মুখে প্রথমে কিছু বলতে শুরু করলেও তার মোবাইল ফোনে একটি কল আসলে তিনি পরবর্তীতে বলেন, এখন আর কিছু বলা যাবে না।
জায়গার বিষয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুর সাথে মুঠোফোনের ফোন করা হলে তিনি জানান, জায়গাটি মালিক তারা। ১৭ বছর ধরে সেখানে তারা ভোগ দখলে আছেন। তাই তারা দোকানপাট করছেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বলেন সোমবার এ নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে, এই নিষেধাজ্ঞা থাকবে না।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন,এ বিষয়ে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি,সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


