আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনের নির্বাচনী সমীকরণ এখন অনেকটাই পাল্টে গেছে। হেভিওয়েট ও পরিচিত প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় নেই শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। ভোটের মাঠে লক্ষ্য করা যাচ্ছে
নতুন মুখ। স্থানীয় রাজনীতির যে সরগরম চিত্র প্রতি নির্বাচনে দেখা যায়, এবার তা নেই। যেনো আমেজ শূন্য মাঠ। নির্বাচনী আগ্রহও তেমন নেই। অনেকেই মনে করছেন, ভোটের আগে জনগণ যেন জানেই ফলাফল।
এক সময়ের বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে দীর্ঘ চার মেয়াদ ধরে (২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) আওয়ামী লীগের আধিপত্য ছিল। জেলা জুড়ে তিনটি আসনে সংসদে প্রতিনিধি পাঠিয়েছে এই দল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর রাজনীতির চিত্র এবং হিসাব-নিকাশ উল্টে গেছে। এখন বিএনপি নিজস্ব ঘাঁটি পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছে।
জেলা জুড়ে বিএনপির কিছু নেতারা ভোটারদের মাঝে প্রচারণায় ব্যস্ত থাকলেও, দলটির মনোনয়ন নিয়ে বিভেদ প্রকাশ্য আকার নিয়েছে। মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাইয়ের ছোট ভাই মো. মহিউদ্দিন। গেলো শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বেলা ১১ টার দিকে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই শেষে
স্বতন্ত্রসহ ৪ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষণা
করা হয়। এরমধ্যে ১০ জন সমর্থনকারী ভোটারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে একজন ভোটারকে না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিনের মনোনয়ন পত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া মামলার তথ্য গোপন করায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নূর হোসাইন নূরানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির আনিছ মোল্লা এবং মনোনয়ন পত্রের সঙ্গে দেওয়া বিভিন্ন তথ্যে সামঞ্জস্য না থাকার কারণে কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী শেখ মো. কামাল হোসেনের মনোনয়ন পত্রও অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতন আপাতত সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। এ পরিস্থিতি দলের মধ্যে দ্বন্দ্বকে বাড়িয়ে তুলেছে। বিদ্রোহী প্রার্থী যদি আপিলে বৈধতা পান, তাহলে বিএনপির জয়ের পথ নিজ দলেই বাঁধা হতে পারে।
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টিসহ অন্যান্য ছোট দলগুলোর উল্লেখযোগ্য ভোট ব্যাংক নেই। তবুও জামায়াত জোট নিজেদের শক্তি বাড়াতে প্রচারণায় নিয়োজিত।
অন্যদিকে, নতুন ভোটার এবং আ’লীগ সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রে গেলে বিএনপি লাভবান হতে পারে।
এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন: মুফতি নূর হোসাইন নূরানী (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস – জামায়াত জোট) শেখ মো. কামাল হোসেন (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) সুমন দেওয়ান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)
আনিছ মোল্লা (বাংলাদেশ লেবার পার্টি)
মো. আরিফুজ্জামান দিদার (জাতীয় পার্টি)
হাজী আব্বাস কাজী (খেলাফত মজলিস বাংলাদেশ)
শেখ মো. শিমুল (বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি)
বিএনপি এবং বিদ্রোহী প্রার্থী উভয়ই নতুন ভোটারদের কাছে “ধানের শীষ” প্রতীক টানার প্রচারণা চালাচ্ছেন।
মুন্সীগঞ্জ জেলার ভোটার সংখ্যা ১৪,৩৩,৪৭৬, যার মধ্যে পুরুষ ৭,৩৮,৫০৬, নারী ৬,৯৪,৯৬৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গ ৩ জন। নতুন ভোটার এই আসনে ৯১ হাজারের বেশি।
পড়ুন: মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁয় ৬.৭ ডিগ্রি
দেখুন: ভারত সোনার মজুত এত বাড়াচ্ছে কেন?
ইম/


