কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় কৃষক মাওলা সরকার হত্যার সাথে জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকালে উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়কের বাঙ্গরা ডাকবাংলোর সামনে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচি চলাকালে সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলে শত শত যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। দীর্ঘ আধা ঘণ্টা পর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা সড়ক ছেড়ে দেন। পরে তারা বিচারের দাবিতে থানার সামনে গিয়ে অবস্থান গ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন নিরীহ কৃষককে রাতের আঁধারে নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও ঘটনার ৬ দিন পার হয়ে গেছে, অথচ এখনো মূল আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি। নিহত মাওলা সরকারের ১ থেকে ১৩ বছর বয়সী পাঁচটি শিশু সন্তান রয়েছে। এটি কেবল একজন ব্যক্তিকে হত্যা নয়, বরং একটি সাজানো পরিবারকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।” এই নৃশংস ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মহেশপুর গ্রামের ফিরোজ মিয়া বলেন, “এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড পুরো সমাজের জন্য হুমকি। আমরা অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাই।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী স্বজনরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে বাঙ্গরা বাজার থানাধীন মহেশপুর গ্রামের কৃষক মাওলা সরকার বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। সেচ প্রকল্প (স্কিম) নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে খোরশেদ আলমকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল কাদের জানান, মামলার এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে


