কুমিল্লার মুরাদনগরে গরু ভাগাভাগি ও বাবার হজের টাকা পরিশোধ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছেলের হাতে বাবাকে পিটিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টনের পরও লোভ ও বিরোধ যে কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, এ ঘটনা তারই নির্মম দৃষ্টান্ত।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের সুবিলারচর (পূর্ব পাড়া) গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
নিহত ব্যক্তি সুরুজ মিয়া (৬৫)। তিনি সুবিলারচর গ্রামের মৃত জাহেদ আলীর ছেলে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হিসেবে নিহতের বড় ছেলে ফয়েজ মিয়া (৩২)-এর নাম জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্র জানায়, জীবদ্দশায় সুরুজ মিয়া তার তিন ছেলের মধ্যে জমিজমা ও অন্যান্য সম্পত্তি ভাগ করে দেন। তবে শর্ত ছিল—বাবার হজ পালনের জন্য নির্ধারিত টাকা পরিশোধের পর ছয়টি গরু তিন ভাইয়ের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। সোমবার বিকেলে বাবার হজের টাকা পরিশোধ না করেই বড় ছেলে ফয়েজ মিয়া গরু বিক্রির উদ্যোগ নেন। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ফয়েজ মিয়া কাঠের চেলি দিয়ে তার বাবার মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় সুরুজ মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর অভিযুক্ত ছেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে সুরুজ মিয়ার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মুরাদনগর থানায় নিয়ে আসে।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান জামিল খান জানান, গরু ভাগাভাগি সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।
পড়ুন : কুমিল্লায় বাস-অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষ, নিহত ৪


