কুমিল্লার মুরাদনগরের পাঁচকিত্তা গ্রামে নারীকে নির্যাতনের ঘটনায় ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া প্রধান অভিযুক্ত শাহপরানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
শনিবার (৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লার আমলী আদালত-১১ এর বিচারক মমিনুল হকের আদালতে শাহপরানকে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. সাদেকুর রহমান।
সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা শাহপরানকে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার বুড়িচং এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে ঢাকায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শাহপরান ওই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে জানায় র্যাব। গ্রেপ্তারের পর আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আজ শনিবার তাকে আদালতে তোলা হয় এবং আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. সাদেকুর রহমান জানান, আদালতে হাজিরের সময় তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদন করেননি। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আগামীকাল রবিবার রিমান্ড আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন রাতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাহেরচর পাঁচকিত্তা গ্রামে ওই নারীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে ২৯ জুন নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা-প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
ঘটনার দিনই ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া ফজর আলীকে বাদী করে একটি ধর্ষন মামলা করেন।মামলার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান শুরু করে।
এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন— ফজর আলী, শাহপরান, সুমন, রমজান, আরিফ ও অনিক। এদের মধ্যে ফজর আলী গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি চার আসামি, সুমন, রমজান, আরিফ ও অনিককে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করে গত ৩ জুলাই তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। শনিবার শাহপরানকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হলো।
পড়ুন: মুরাদনগরে একই পরিবারের তিনজনকে হত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ২
এস/


