১৪/০১/২০২৬, ২:০৫ পূর্বাহ্ণ
18 C
Dhaka
১৪/০১/২০২৬, ২:০৫ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

মুরাদনগরে মাছ চুরির সন্দেহে দুই যুবককে গাছে বেঁধে মারধর, ২ গ্রাম্য বিচারক গ্রেপ্তার

কুমিল্লার মুরাদনগরে মাছ চুরির সন্দেহে দুই দরিদ্র যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানবিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে কথিত ২ গ্রাম্য বিচারকের বিরুদ্ধে। এদিকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনার ঝড়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুই গ্রাম্য বিচারক আব্দুল হাকিম ও ইকরামুল হককে গ্রেপ্তার করেছে মুরাদনগর থানা পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের আব্দুস সালাম মিয়ার পুকুর থেকে মাছ চুরির সন্দেহে একই গ্রামের সামু সেন ও আরমান মিয়া নামের দুই যুবক কে আটক করা হয়।

পরে পুকুর মালিক আব্দুস সালাম মিয়া স্থানীয় গ্রাম্য মাতবর আবদুল হাকিম ও ইকরামুল হকের কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে বিচারপ্রার্থী হয়। পরে ওই দুই গ্রাম্য মাতবর মাছ চুরির সন্দেহে সামু সেন ও আরমান মিয়াকে ধরে এনে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাছে বাধা অবস্থায় মধ্যযুগীয় কায়দায় প্রচণ্ড মারধর করে দুই যুবককে রক্তাক্ত করা হয়। পরে নির্যাতনের শিকার দুই যুবকের সাথে বিচারকরা সমঝোতায় গেলেও, মারধরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। আর এতেই শুরু হয় আলোচনা সমালোচনার ঝড়।

পরে ঘটনার ৭ দিন পর বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) নির্যাতনের শিকার সামু সেনের স্ত্রী পঞ্চমী রানী সেন বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পাহাড়পুর ইউপির চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ মাঝি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া গ্রাম্য বিচারক আবদুল হাকিম ও ইকরামুল হক দুজন মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। তাই এদের কঠোর বিচার হওয়া উচিত।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত দুই গ্রাম্য মাতবরকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডারে নিরীহ গ্রামবাসীকে হয়রানির অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন