দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে শত শত মুসল্লির জন্য ইফতারের আয়োজন করছে বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল জামে মসজিদ কমিটি।
এখানে নেই কোনো শ্রেণী বৈষম্য, নেই বয়সের ভেদাভেদ। ধনী-গরিব ও বিভিন্ন বয়সের প্রায় সাত শতাধিক মানুষ একসাথে বসে ইফতার করে। এখানে কেউ কাউকে চেনেন না। অথচ পাশাপাশি বসে ইফতার করছেন। সবার একটাই পরিচয়, তারা রোজাদার মুসলিম। সারাদিন রোজা রেখে এক প্লেটের চারদিকে চার থেকে পাঁচজন মুসল্লি বসে ভাগাভাগি করে ইফতার করেন।

গত ১৬ বছর ধরে প্রতি রমজানে এভাবেই রোজাদারদের আপ্যায়নে ইফতার আয়োজন করে আসছে বগুড়া শহরের স্টেশন রোডে অবস্থিত বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল জামে মসজিদ। তাদের এই বিশাল আয়োজনে একসাথে বসে ইফতার করে ছয় থেকে সাতশো রোজাদার।
কোনো কোনো দিন এর থেকেও বেশি মানুষ হয় ইফতারে।
জোহরের নামাজের পর থেকে মসজিদে শুরু হয়ে যায় স্বেচ্ছাসেবীদের কর্মযজ্ঞ। স্বেচ্ছাসেবকেরা প্লেটে ইফতারসামগ্রী সাজাতে শুরু করেন আসরের নামাজের পর। প্লেটে থাকে খেজুর, ছোলা, পেঁয়াজু, মুড়ি, বেগুনি, জিলাপি, বিরিয়ানি বা খিচুড়ি ও শরবত।

এতো মানুষের আয়োজন কিন্তু কোনো বিশৃঙ্খলা নেই। ইফতারের আধা ঘণ্টা আগে থেকেই মুসল্লিরা সারিবদ্ধভাবে বসতে শুরু করেন। ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসার সাথে মুসল্লির সংখ্যাও বাড়তে থাকে। সময়মতো মুসল্লিদের হাতে হাতে ইফতারির প্লেট তুলে দেন মসজিদের খাদেম ও স্বেচ্ছাসেবকেরা।
এখানে প্রতিদিন সোয়া মণ সুগন্ধি চাল এবং ১০ থেকে ১৫ কেজি গরুর মাংসের বিরিয়ানি রান্না করা হয়। রান্নার জন্য রয়েছে পেশাদার বাবুর্চি। বিরিয়ানির সাথে থাকে ছোলা, বুন্দিয়া, জিলাপি, খেজুর, মুড়ি, তরমুজ ও শরবত। বাবুর্চিদেরও দেয়া হয় বেশ ভালো পারিশ্রমিক।
রমজান শুরুর আগেই স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মুসল্লিরা ইফতার তহবিলে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ দেন। এবছর ইফতার তহবিলে এখন পর্যন্ত জমা হয়েছে সাড়ে ২৬ লাখ টাকা। মসজিদের মুসল্লি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহায়তায় সফল হয়েছে একসাথে ইফতারের এই মহতি উদ্যোগ।

মসজিদের খাদেম মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, এমন আয়োজনে ধনী-গরিব একসঙ্গে ইফতারের মাধ্যমে রোজার প্রকৃত শিক্ষা নিজেকে আত্মশুদ্ধি করা ছাড়াও সাম্য প্রতিষ্ঠা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের মাধ্যমে ধর্মীয় মূল্যবোধের অনন্য উদাহরণ তৈরি হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০০৮ সাল থেকে বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল জামে মসজিদে নামাজ আদায় শুরু হয়। ওই বছরের রমজান মাস থেকেই মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে একসঙ্গে ইফতার আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়। সেই থেকেই চলে আসছে ইফতারের এই মহাসমারোহ। তবে মহামারি করোনার কারণে দুই বছর এই আয়োজন বন্ধ ছিল।
মসজিদের মুসল্লি ছাড়াও শহরের বিত্তবানদের সহায়তায়ই সম্ভব হয়েছে এই ইফতার আয়োজন। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষদের বিনামূল্যে ইফতার দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে এই মসজিদটি।
এনএ/


