ফেনীর মুহুরী নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির ফলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেল থেকে নদীর পানি বিপদসীমার ১৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। উজান থেকে প্রচণ্ড ঢল ও টানা ভারি বর্ষণে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক ভাঙন।
বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অন্তত পাঁচটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের গাফেলতির কারণে বল্লামুখা বেড়িবাঁধ দিয়ে নতুন করে ভেঙে মূহুরী নদীর পানি পূর্ব রাঙ্গামাটিয়া গ্রাম দিয়ে বাংলাদেশ ঢুকছে। এর মধ্যে পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের জঙ্গলঘোনা গ্রামে দুটি,মির্জানগর ইউনিয়নের গদানগর ও সাহেবনগর এলাকায় ভাঙন দেখা গেছে। এসব পয়েন্ট দিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে ব্যাপক প্লাবনের সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ফেনীতে ৪৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সন্ধ্যায় মুহুরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। জেলা প্রশাসক জানান, “সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতকরণ এবং উদ্ধার তৎপরতার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী দল মাঠে রয়েছে।”
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার নিচে নামলে এবং বৃষ্টিপাত কমে এলে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় ফুলগাজী উপজেলায় ৯৯টি (মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩২টি ও প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৭টি) এবং পরশুরাম উপজেলায় ৩২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পড়ুন : ফেনীর পরশুরামে সাড়ে ৩ কোটি টাকার রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ


