বিজ্ঞাপন

মেধার মূল্যায়ন করায় বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞ জান্নাতুল আরফিন

অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারিয়ে চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার জান্নাতুল আরফিন। তার সংগ্রামী জীবনের গল্প গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তার পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে জান্নাতুল আরফিনের পরিবারের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক।

জান্নাতুল আরফিন মেডিকেলে চান্স পাওয়ার করুন বাস্তবতা তারেক রহমানের নজরে এলে তিনি তাঁর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন।

জান্নাতুল আরফিন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কইয়াজলা গ্রামের আনসার আলী ভুঁইয়া বাড়ির মৃত আব্দুল ওয়াদুদ ও শাহিদা আক্তার দম্পতির বড় সন্তান। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় জান্নাত। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবার মৃত্যু হলে পরিবারের ওপর নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা।

চার সন্তানকে মানুষ করতে একাই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন জান্নাতের মা শাহিদা আক্তার। সংসার ও সন্তানদের পড়াশোনা চালাতে তিনি বাড়িতে সেলাইয়ের কাজ, টিউশনি এবং আত্মীয়দের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেন। বড় মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে ২০২৩ সালে স্বামীর রেখে যাওয়া মাত্র পাঁচ শতাংশ ধানের জমি তিন লাখ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হন তিনি।

জানা গেছে, জান্নাতুল আরফিন নোয়াখালীর গাজীরহাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি উত্তীর্ণ হন। আর্থিক সংকটে উচ্চমাধ্যমিকে পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়লেও আত্মীয়দের সহায়তায় তিনি জিয়া মহিলা কলেজ, ফেনীতে ভর্তি হন। সেখান থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন তিনি।

এইচএসসি শেষে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে প্রথম দফায় কোচিং বাবদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। প্রথমবার প্রত্যাশিত ফল না পেয়ে হতাশ হলেও হাল ছাড়েননি জান্নাত। পরবর্তীতে চট্টগ্রামে পুনরায় কোচিংয়ে ভর্তি হয়ে আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করেন।

অবশেষে কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য মানসিকতার ফল হিসেবে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় ৪ হাজার ৪১তম স্থান অর্জন করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ-এ ভর্তির সুযোগ পান জান্নাতুল আরফিন। তবে ভর্তি, বইপত্র ও অন্যান্য খরচ নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়ে পরিবারটি।

জান্নাতের মা শাহিদা আক্তার বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কেটেছে। তবুও মেয়েকে কখনো হাল ছাড়তে দিইনি। আজ তারেক রহমানের প্রতিনিধি হয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক আমাদের বাড়িতে এসেছেন-এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে জান্নাতুল আরফিন বলেন, স্বপ্নের মেডিকেলে চান্স পাওয়ায় আল্লাহর দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া। মা একাই আমার বাবা-মা। তার ত্যাগ আমাকে লড়াই করতে শিখিয়েছে। ভবিষ্যতে একজন মানবিক চিকিৎসক হয়ে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, অজপাড়া গ্রামের খবরও লন্ডনে অবস্থানরত আমাদের নেতা তারেক রহমানের কাছে পৌঁছেছে। পিতৃহারা এই মেয়েটির পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আচরণবিধির সীমাবদ্ধতা থাকলেও নির্বাচন শেষে জান্নাতের দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করব। আজ থেকে জান্নাত আমার আরেকটি মেয়ে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সেনবাগ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মুক্তার হোসেন পাটোয়ারী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক মিয়া মো. ইলিয়াস, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন রাসেল, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সহিদ উল্যাহ, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী সুফিয়া আক্তার মনি, ডুমুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

পড়ুন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণে ৩০০ ফুট সড়কে প্রস্তুত হচ্ছে মঞ্চ

দেখুন- নতুন নেতৃত্বে বিএসবিওএ: চট্টগ্রাম বন্দরকে গতিশীল করার অঙ্গীকার 

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন