বিজ্ঞাপন

খুলনার সাবেক মেয়র খালেকের দুর্নীতির তদন্ত শুরু

খুলনা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয় খুলনার উপ-পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদকে টিম লিডার করে গঠন করা হয়েছে ৩ সদস্যের অনুসন্ধান টিম।

বিজ্ঞাপন

তদন্তের শুরুতে বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাগজপত্র চেয়ে ৩টি প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি দিয়েছে দুদক।

দুদকের উপ-পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ জানান, সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘন করে অন্যের লাইসেন্সে খুলনা সিটি করপোরেশনে ঠিকাদারি কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। সে কারণে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়ে বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয়েছে।

দুদকের চিঠিতে অভিযোগের বিবরণে বলা হয়, তালুকদার খালেকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে ১৫ বছরে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। চিঠিতে তালুকদার খালেক মেয়র হিসেবে দায়িত্বকালীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হোসেন ট্রেডার্স, আজাদ ইঞ্জিনিয়ার্স এবং মেসার্স তাজুল এন্টারপ্রাইজের নামে যে সকল ঠিকাদারি কাজ সম্পন্ন হয়েছে বা চলমান রয়েছে সে সকল প্রকল্পের নাম, বরাদ্দের পরিমাণ, চুক্তিমূল্য, ঠিকাদারের নাম, ঠিকানা ও প্রতিষ্ঠানের নাম, সম্পাদিত কাজের পরিমাণ, কাজের অগ্রগতি কত শতাংশ, পরিশোধিত বিলের পরিমাণ জানতে চাওয়া হয়েছে।

ঠিকাদার এইচ এম সেলিমের প্রতিষ্ঠানের নামে যেসব ঠিকাদারি কাজ হয়েছে তার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে দুদক। নগরীর খালিশপুরের ১৮ নম্বর রোড উন্নয়ন সংক্রান্ত কাজের টেন্ডার সংক্রান্ত সকল রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। এছাড়া তালুকদার খালেক মেয়র থাকাকালীন তার ব্যবহৃত সকল গাড়ির লগ বই চেয়েছে সংস্থাটি।

দুদক থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে কর অঞ্চল সার্কেল-৩ এর উপ-কর কমিশনারের কাছে। ওই চিঠিতে তালুকদার খালেক ও তার স্ত্রী সাবেক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহারের আয়কর রিটার্ন দাখিলের শুরু থেকে সর্বশেষ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন, সংলগ্নী, কর নির্ধারণী আদেশ ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রসহ আয়কর নথির সত্যায়িত ছায়ালিপি চাওয়া হয়েছে।

এদিকে, নগরীর বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সভাপতি ছিলেন সাবেক মেয়র তালুকদার খালেক। ওই প্রতিষ্ঠানের উপাচার্যের কাছে দুদকের সহকারী পরিচালক রকিবুল ইসলাম চিঠি দিয়ে ৭ ধরণের তথ্য চেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিটির খুলনার বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এর তালিকা, স্থায়ী
ক্যাম্পাস নির্মাণের লক্ষ্যে রূপসা বাইপাস সড়কে কেনা সংক্রান্ত দলিল, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এর সভার কার্যবিবরণীসহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর হতে অদ্যাবধি বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এর যে সকল সভা হয়েছে তার তারিখ, সভা নম্বর, অংশগ্রহণকারীদের তালিকা, প্রদত্ত সম্মানী ভাতা এবং সভার
অন্যান্য ব্যয় সম্বলিত বিবরণী।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন কোর্সে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট বিতরণ বাবদ গৃহীত অর্থের আদায় রশিদ, ক্যাশ বই এবং গৃহীত অর্থ ব্যয় সংশ্লিষ্ট বিল-ভাউচার ও ক্যাশ বই ইত্যাদি। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর ব্যবহৃত ক্যাশ বই। বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে পরিচালিত সকল ব্যাংক হিসাবের হালনাগাদ হিসাব বিবরণী। উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ মো. এনায়েতুল বাবরের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ সংক্রান্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদনপত্র, জীবনবৃত্তান্ত, নিয়োগ কমিটির সভার কার্যবিবরণী, নিয়োগপত্রসহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রেকর্ডপত্র ও তথ্যাদির সত্যায়িত ছায়ালিপি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের হলফনামা অনুযায়ী তালুকদার খালেকের সম্পদ ছিল ৪৫ লাখ টাকার। ২০২৩ সালের হলফনামায় সম্পদ দেখান সাড়ে ৯ কোটি টাকার। নগরীর কাস্টমস ঘাট এলাকায় রয়েছে তার ৬ তলা বাড়ি। তিনি ৩ দফায় মেয়র ছিলেন ১১ বছর। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।

এনএ/

দেখুন: ‘কর্মচারীদের লাঠিয়াল বাহিনী বানিয়েছেন বরিশালের মেয়র’ 

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন