বিজ্ঞাপন

মেহেরপুরে ইউনিয়ন পরিষদের আধিপত্য নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদের আধিপত্য নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালুসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার দুপুরে রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।


আহতদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু (৬০), রাইপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বকুল হোসেন (৪০), বিএনপি কর্মী খাইরুল ইসলাম (৪৪) ও রাসেল হোসেন (৪২) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতদের মধ্যে আলফাজ উদ্দীন কালু ও খাইরুল ইসলামের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে। তাদের মাথায় একাধিক সেলাই দেওয়া হয়েছে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবের পর থেকে রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম সাকলায়েন ছেপু ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশ করতে পারছিলেন না। তার অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন বিএনপি নেতা সারকিদুল ইসলাম। তবে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করে আসছিল বিএনপির একটি পক্ষ।
এক পর্যায়ে বিএনপির ওই পক্ষ আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম সাকলায়েন ছেপুকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের চেয়ার দখলের চেষ্টা করে। এ খবর পেয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান সারকিদুল ইসলাম তার সমর্থকদের নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা।


গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যে ব্যক্তি প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি প্রকৃতপক্ষে প্যানেল চেয়ারম্যান নন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি পছন্দের লোকজনকে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দিয়ে প্রকৃত দরিদ্রদের বঞ্চিত করছেন এবং সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।


অন্যদিকে রাইপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সারকিদুল ইসলাম বলেন, একটি পক্ষ ইউনিয়ন পরিষদে হামলা ও লুটপাটের পরিকল্পনা করছে এমন তথ্য পেয়ে পরিষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা অবস্থান নিয়েছিলাম।


গাংনীর এলাঙ্গী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ অতুল কুমার জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন।

পড়ুন- যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণ করবে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র নয়: আইআরজিসি

দেখুন- সৌদিতে মা/র্কি/ন ঘাঁটিতে ইরানের হা/ম/লা, দুই বাংলাদেশী নি/হ/ত

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন