পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের মাত্র একদিন আগে মেহেরপুরে তীব্র জ্বালানি তেল সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ও পেট্রোলের স্বল্পতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষক, পরিবহন চালক ও সাধারণ মানুষ। এ পরিস্থিতিতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরেই জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে এসেছে। বিশেষ করে ডিজেলের সংকট সবচেয়ে বেশি প্রকট আকার ধারণ করেছে। এতে করে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গম কাটা, মাড়াই ও জমিতে সেচ দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষিকাজ থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কৃষকরা জানান, ডিজেলের অভাবে তারা নির্ধারিত সময়ে জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। অনেকেই গভীর নলকূপ বা সেচযন্ত্র চালাতে পারছেন না। ফলে বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক সেচ ব্যবস্থার কথা ভাবলেও তা সবার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরাও পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। ভোর থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত তেল মিলছে না। অনেক ক্ষেত্রেই ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী চালকদের অভিযোগ, ঈদের আগে এমন সংকট তাদের চলাচল ও দৈনন্দিন কাজকে ব্যাহত করছে। কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না, আবার অনেকেই জরুরি কাজও করতে পারছেন না।
এ বিষয়ে পাম্প মালিকরা জানান, তারা নিজেরাও বিপাকে রয়েছেন। ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন ক্রেতাদের চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, মেহেরপুর জেলায় মোট ১১টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। তবে বর্তমান সংকটে এসব স্টেশনে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। অন্যথায় আসন্ন মৌসুমে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন।
পড়ুন- বাসে বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগে বিভিন্ন এলাকায় জরিমানা


