মেহেরপুর সদর উপজেলার সুবিদপুর গ্রামে পুকুর সংস্কারের নামে অবাধে মাটি কেটে বিক্রির যেন মহোৎসব চলছে। অভিযোগ উঠেছে, একই এলাকার মাসুদ নামের এক ব্যক্তি বালুমহাল, মাটি ব্যবস্থাপনা ও ভূমি আইনের তোয়াক্কা না করে এবং স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পুকুর সংস্কারের নামে বিপুল পরিমাণ মাটি উত্তোলন করে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করে আসছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর অবৈধভাবে পুকুর খনন ও সংস্কারের নামে মাটি ও বালু উত্তোলনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বিক্রয় সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন মাসুদ। এতে করে পুকুরের আশপাশের কৃষিজমি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিতে পড়েছে মাঠ থেকে ফসল আনা-নেওয়ার একমাত্র গ্রামীণ সড়কটি, যে সড়ক দিয়ে অন্তত ৮ থেকে ১০টি গ্রামের কৃষকরা ফসল পরিবহন করে থাকেন।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সুবিদপুর মোল্লাপাড়া হ্যাচারি মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, শওকত নামের এক ব্যক্তির প্রায় ৫ বিঘা জমির পুকুর থেকে গভীরভাবে মাটি কেটে ইটভাটা ও বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন মাসুদ। তিনি নিজস্ব ভেকু (এস্কেভেটর) ব্যবহার করে মাটি খননের কাজ চালাচ্ছেন। এ সময় একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকেও ভেকু দিয়ে মাটি কাটার কাজে ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দূরত্বভেদে প্রতি গাড়ি মাটি ৮শ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। ট্রাক্টর দিয়ে মাটি পরিবহনের ফলে মাঠে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি ধুলোয় ঢেকে গেছে। গভীরভাবে পুকুর খননের কারণে রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, দিনের বেলা ও রাতের আঁধারে কৃষিজমির পাশে পুকুর খনন করে মাটি ও বালু উত্তোলন করছেন অসাধু বালু ব্যবসায়ী মাসুদ। দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকায় এই অবৈধ কার্যক্রম চলায় পুকুরের পাশের ফসলি জমি ও ফসল আনা-নেওয়ার রাস্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তাকে একাধিকবার নিষেধ করা হলেও তিনি প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে হুমকি দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী কৃষকরা আরও জানান, পুকুরের পানি নিষ্কাশনের ফলে পাকা ধান নষ্ট হচ্ছে। এতে করে তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে এই অবৈধ মাটি ও বালু ব্যবসা চললেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে এসিল্যান্ড অফিসে মৌখিকভাবে অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তারা কৃষকদের স্বার্থে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মাটি বিক্রির বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

