মেহেরপুরে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। উত্তরের হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। মঙ্গলবার জেলায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন। দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে।
গত কয়েকদিন ধরেই মেহেরপুরের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে চারপাশ। বেলা বাড়লেও শীত কমছে না। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
দিনমজুর কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, এই শীতে সকালে মাঠে নামতেই কষ্ট হয়। হাত-পা অবশ হয়ে আসে। কাজ করলেও ঠিকমতো পারছি না। কাজ কম, আয়ও কমে গেছে।
ভ্যানচালক শফিকুল ইসলাম জানান, সকাল বেলায় যাত্রীই পাওয়া যায় না। কুয়াশার কারণে রাস্তায় বের হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও সংসারের জন্য বের হতে হয়।
শীতের কারণে সড়ক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক যানবাহনকে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা গেছে। কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে প্রচণ্ড শীতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে শিশুরা ও বয়োজ্যেষ্ঠরা। শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে সকালের শিফটে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের কষ্ট আরও বেশি।
স্কুল ছাত্র আব্দুর রহমান বলেন,সকালে স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়। কুয়াশা আর ঠান্ডায় হাত-পা কাঁপে। ক্লাসে বসেও ঠান্ডা লাগে।
শীতজনিত রোগের প্রকোপও বাড়ছে। গাংনী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আজিজ বলেন, এই সময়ে নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও জ্বরের ঝুঁকি বেশি থাকে। শিশু ও বৃদ্ধদের গরম কাপড় ব্যবহার করতে হবে এবং ঠান্ডা এড়িয়ে চলতে হবে।
মেহেরপুর জেলা প্রসাশক সৈয়দ এনামুল কবির জানান, অসহায় ও শীতার্তদের মাঝে শীত বিতরণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
পড়ুন- চুয়াডাঙ্গায় বালির ট্রাক ও মাছের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ১


