১৫/০১/২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ণ
22 C
Dhaka
১৫/০১/২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

মেহেরপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন

মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ নজিরবিহীন মানববন্ধন। শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে গাংনী উপজেলার আকুবপুর থেকে গাড়াডোব পর্যন্ত মেহেরপুর–কুষ্টিয়া আঞ্চলিক সড়কের দু’পাশজুড়ে হাজারো মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে দাঁড়িয়ে তাঁদের মতপ্রকাশ করেন। নারী-পুরুষ, ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমজীবী, দিনমজুর, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের উপচেপড়া অংশগ্রহণ মানববন্ধনটিকে পরিণত করেছে জেলার অন্যতম বৃহৎ গণঅভিব্যক্তিতে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা জানান, দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা ও কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে মাঠে থেকে বিএনপির রাজনীতি ধরে রেখেছেন। বিশেষ করে জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন—দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক ত্যাগ, জেল-জুলুম, দুঃসময়ে কর্মীদের পাশে থাকা এবং সংগঠনকে পুনর্গঠনে তাঁর ভূমিকা নেতাকর্মীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করার সময় দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে “অন্যায়” বলে দাবি করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানান তাঁরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মিল্টন ভাই আমাদের সুখ-দুঃখের সঙ্গী। মামলা-হামলার সময়ে তিনি নিজে ঝুঁকি নিয়ে পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। দলের দুঃসময়ে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। অথচ এমন একজন ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা আমাদের মেনে নেওয়া কঠিন।

আরেক বক্তা বলেন, যাকে মাঠের নেতাকর্মীরা চেনেন, যিনি আমাদের সঙ্গে লড়াই করেছেন, সেই ব্যক্তিকেই আমরা প্রার্থী হিসেবে চাই। প্রয়োজনে আমরা জীবন দেবো, তবুও মনোনয়ন পরিবর্তন চাই। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করলে নেতাকর্মীদের ক্ষোভ পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে।

বিকেল ৫টার দিকে গাড়াডোব এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে মানববন্ধনের উদ্বোধন করেন গাংনী উপজেলা বিএনপির নেতারা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দাল হক, গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা, সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলামসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।

মানববন্ধনে শুধু দলীয় নেতাকর্মী নয়, স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী, রিকশাচালক, হোটেল কর্মচারী, দিনমজুর, কলেজ–স্কুলের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকে বলেন, এলাকার উন্নয়ন, সংগঠনের ঐক্য এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য মিল্টনের মতো অভিজ্ঞ, ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব অপরিহার্য। তাঁকে ছাড়া মনোনয়ন দিলে দলের ভেতরে বিভেদ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন বক্তারা।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, ২২ কিলোমিটারজুড়ে হাজারো মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে দাঁড়িয়েছে। এটি কোনো নেতার নির্দেশে নয়, মানুষের হৃদয়ের দাবিতে সংগঠিত একটি গণআন্দোলন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

স্থানীয় পর্যায়ে বিশ্লেষকদের মতে, মনোনয়নকে কেন্দ্র করে গাংনীতে স্বাভাবিক রাজনীতির গতি নতুনভাবে মোড় নিয়েছে। দীর্ঘদিন এলাকায় সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় মিল্টনকে বাদ দেওয়া হলে নির্বাচনী মাঠে দল বড় ধরনের নেতাকর্মী সংকটের মুখে পড়তে পারে। তৃণমূলের এই গণঅংশগ্রহণ কেন্দ্রকে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে বলেও মনে করছেন তাঁরা।

বিএনপির কেন্দ্রীয় ঘোষিত মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে এমন দীর্ঘ মানববন্ধন এই এলাকায় আগে দেখা যায়নি বলে জানান স্থানীয়রা। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানববন্ধন চললেও কোথাও ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।

পড়ুন: বর্ণাঢ্য আয়োজনে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের হীরক জয়ন্তী পালন

দেখুন: টপ ফোর: সেরা প্রতিবেদন একসাথে

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন