বিজ্ঞাপন

মোশাররফের নেতৃত্বে সোনারগাঁ থানা বিএনপির নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া আ.লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতারা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর সোনারগাঁয়ের আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোশাররফ হোসেনকে ম্যানেজ করে বিএনপির রাজনীতিতে প্রবেশ করার অভিযোগ উঠেছে। এই সুযোগে অনেকে জাতীয় পার্টির নেতা হয়েও বিএনপির কমিটিতে বড় বড় পদপদবী দখল করে নিয়েছেন। ২০১৪ সাল থেকে টানা ১০ বছর যারা সোনারগাঁয়ে জাতীয়পার্টির এমপির হয়ে দখলদারিত্ব করেছেন, প্রভাববিস্তার করেছেন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করেছেন সেইসব ব্যক্তিরা এখন বিএনপির বড় বড় নেতা বনে গেছেন।

জানা যায়, সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সোনারগাঁ উপজেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম। বিগত আওয়ামী আমলের প্রথম ১০ বছর বিএনপির রাজনীতির বাইরে থাকা মোশাররফ হোসেন তার বন্ধু কালামের সাথে মিশে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়েছে ও ব্যবসা করেছেন। আওয়ামী লীগের শেষের দিকে বিএনপির রাজনীতিতে অ্যাক্টিভ হয়ে পরবর্তীতে থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হন মোশাররফ হোসেন। আওয়ামী লীগের পতন হওয়ার পর সোনারগাঁওয়ে টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাদের পুর্নবাসনের দায়িত্ব নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোশাররফে বিরুদ্ধে। সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান ত্যাগী নেতা হওয়ায় শুরু থেকেই মোশাররফের এই কর্মকাণ্ড অপছন্দ করতেন। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানকে ব্লাকমেইল করে মোশাররফ। এ নিয়ে স্থানীয় ত্যাগী বিএনপি নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সোনারগাঁও উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি ছিলেন রফিকুল ইসলাম বিডিআর, সিরাজুল ইসলাম ভুঁইয়া, শহীদ সরকারের মত নেতারা। কিন্তু এখন তারা মোশাররফ হোসেনকে ম্যানেজ করে বিএনপির সাচ্চা নেতায় পরিণত হয়ে গেছেন। রফিকুল ইসলাম উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতির পদ দখল করেছেন। সিরাজুল ইসলামও বিএনপির সভা সমাবেশে শোডাউন করছেন। শহীদ সরকার উপজেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে বসেছেন। ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে এদের দু’জনার বিরুদ্ধে জাহাজ ডাকাতি ও জমি দখলের অভিযোগ আছে।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন খোকার হাতে ফুলের লাঙ্গল উপহার দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগদানকারী আতাউর রহমান এখন সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক। তিনি সবসময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেনের গাড়ি বহরে থাকেন।

সোনারগাঁও পৌরসভা জাতীয় পার্টির সভাপতি এমএ জামান ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম। শফিকুল ইসলাম বিএনপির সভা সমাবেশে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে চলেছেন। সোনারগাঁও পৌর জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি মোক্তার হোসেন এখন বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মোক্তার হোসেনও মোশাররফ হোসেনের হাত ধরে বিএনপিতে সরব হতে চলেছেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের নেতা মাসুম রানা এখন মোশাররফ হোসেনের অন্যতম ঘনিষ্ঠজন। মাসুম রানা পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা মার্কার চেয়ারম্যান মনোনয়ন প্রত্যাশি প্রার্থী ছিলেন। ৫ আগস্ট পর মাসুম রানা বিএনপির রাজনীতিতে সরব হয়েছেন। জাতীয় পার্টির নেতা আব্দুল মান্নানকে পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বানানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে মান্নান এখন বিএনপির সভা সমাবেশে অংশগ্রহণ করছেন।

২০১৪ সাল ২০২৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টির রাজনীতি করেছেন জামপুর ইউনিয়নের গোলজার হোসেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগার হয়ে যান তিনি। ২০০৯ সালের পর গোলজার হোসেন সরব ছিলেন আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে। ৫ আগস্টের পর জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির নীতিনির্ধারকদের একজন হয়ে ওঠেছেন গোলজার হোসেন। মোশাররফের ছত্রছায়ায় জামপুরের সকল কিছুর নিয়ন্ত্রক এখন গোলজার হোসেন।

সোনারগাঁও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক পার্টির যুগ্ম- আহ্বায়ক ওমর ফারুক টটু। সে এখন বিএনপির রাজনীতিতে সরব। তার ভাই জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ মিঠুর সঙ্গে মোশাররফের রাজনীতিতে টিটুকে নিয়ে এসেছেন। টিটু এখন বিএনপি নেতা। পৌর জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি নওয়াজ আলীও এখন বিএনপির রাজনীতিতে সরব।

নারায়ণগঞ্জের একসময়ের গডফাদার শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ভূমিদস্যু আওয়ামী লীগ নেতা মামুনকে বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বানানো হয়েছে। অনেকে মনে করছেন পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠে নামলে এরা আবারো আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে চলে যাবেন।

সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কালাম ও উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোশাররফ হোসেনের বন্ধু আওয়ামী লীগ নেতা স্বপন, আনোয়ারসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যা মামলার একাধিক আসামি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে নিয়মিত ঘুরে বেড়াচ্ছে মোশাররফ হোসেন। সম্প্রতি একটি ভিডিওতে দেখা যায় ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছগীর আহমেদসহ আওয়ামী নেতাদের মিলনমেলায় মোশাররফ হোসেন।

স্থানীয় বিএনপির ত্যাগী নেতারা বলছেন, মোশাররফ হোসেন আসন্ন পৌরসভার মেয়র প্রার্থী। সুবিধাভোগী এই নেতার বিএনপিতে জনপ্রিয়তা নেই। তাই থানা বিএনপির সবচেয়ে ত্যাগী নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানকে দুর্বল করতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয়পার্টির নেতাদের নিয়ে নিজের বলয় তৈরি করছে মোশাররফ হোসেন। এই বলয়টি টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যাবসাসহ অপকর্ম পরিচালিত করছে। ফলে বিএনপি ও স্থানীয় সংসদ বিতর্কিত হচ্ছেন। তাই বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক যুবদল নেতা জানান, সোনারগাঁয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজিবের যে ত্যাগ ও জনপ্রিয়তা রয়েছে তার কোনো কিছু নেই মোশাররফের। কিন্তু কোনো অদৃশ্য শক্তির বলে সে এখনো থানা বিএনপির পদ দখল করে আছেন।

বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, মোশাররফ হোসেনকে অব্যাহতি দিয়ে খাইরুল ইসলাম সজিবকে থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করা হলে সোনারগাঁ থানা বিএনপি আরো শক্তিশালী ও বিতর্কমুক্ত হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : কর্ণফুলীতে ৮ কোটি টাকার হেরোইনসহ ১৪ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন