নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় তেতুলিয়া ইউনিয়নে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের একেবারে কাছে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে মাসুম (৩৫) নামে এক ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযুক্ত ড্রেজার মালিক মাসুম মোহনগঞ্জ উপজেলার ধুলিয়া গ্রামের তাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি তেতুলিয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি হিসেবেও পরিচিত।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালের দিকে উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের গজধার নৌকাভাঙা ব্রিজ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের গজধার এবং ধুলিয়া গ্রামের সংযোগের জন্য নৌকাভাঙা নদীতে ব্রিজের নির্মাণ কাজ চলছে। এ ব্রিজের সংযোগ সড়কের (অ্যাপ্রোচ রোড) মাটি ভরাটের কাজের জন্য ড্রেজার মালিক মাসুম ব্রিজের পিলারের কাছাকাছি অবৈধ ‘বাংলা ড্রেজার’ বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করেন। গতকাল শুক্রবার থেকে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হয়।
আরও জানা যায়, নদীর উপর নির্মিত কংক্রিটের ব্রিজের পিলারের খুব কাছেই নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম ও বাঁশ দিয়ে ভাসমান ড্রেজার মেশিন বসানো হয়েছে এবং পাইপ দিয়ে বালু টানা হচ্ছে। এভাবে ব্রিজের নিচ থেকে বালু তোলায় ব্রিজটি ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা ড্রেজার দিয়ে বালু তোলায় বাধা প্রদান করেন এবং প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে আজ (শনিবার) সকালের দিকে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) সাদেকুর রহমান। পরবর্তীতে মোহনগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদেরের নেতৃত্বে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ড্রেজার মালিক মোহাম্মদ মাসুমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে ঘটনাস্থলে ড্রেজারটি পুড়িয়ে ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি, তবে সেটি খুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার শর্তে মুচলেকা আদায় করা হয়েছে।
অন্যদিকে, তেতুলিয়া ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) সাদেকুর রহমান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে মাটি কাটার খবর পেয়ে তিনি ওই দিনই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসী প্রশাসনের তড়িৎ পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, ড্রেজারটি ব্রিজের এতোটাই কাছাকাছি বসানো হয়েছিল, নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে নবনির্মিত ব্রিজটির বড় ধরনের ক্ষতিসহ নদীর পাড় ভেঙে যাবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

