বিজ্ঞাপন

মোহনগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে ১০ শিশু হাসপাতালে, সতর্ক থাকার পরামর্শ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে সাড়ে চার মাস বয়সী এক শিশু ভর্তি হয়েছে। এছাড়া একই লক্ষণ নিয়ে আরও নয় শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসায় তাদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) হামের প্রাদুর্ভাব রোধ এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মোমেনূল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন- আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. পার্থ প্রতীম সেন, ডা. মো. রমিজুল করিম, ডা. অলক কান্তি তালুকদার, ডা. জান্নাতুন নেছা চাঁদনিসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার রাতে জ্বর, সর্দি ও শরীরে লালচে রেশ নিয়ে মোহনগঞ্জ হাসপাতালে আসে ফাইজা আক্তার নামের সাড়ে চার মাস বয়সী এক শিশু। সে উপজেলার নাগডড়া গ্রামের আমির আলীর মেয়ে। লক্ষণগুলো দেখে কর্মরত চিকিৎসকদের সন্দেহ হলে, তাকে হামে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনায় তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ফাইজা ছাড়াও সম্প্রতি আরও নয় জন শিশু হামের একই ধরনের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই ১০ জন শিশুর শরীর থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার মহাখালীস্থ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে পরীক্ষার রিপোর্ট আসলে নিশ্চিত হওয়া যাবে তারা আসলেই হামে আক্রান্ত কি না। রিপোর্ট আসার আগ পর্যন্ত এসব শিশুকে আপাতত জ্বর ও সর্দিজনিত প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

জরুরি সভা শেষে ডা. মো. মোমেনূল ইসলাম জানান, হাম রোগের লক্ষণ নিয়ে অনেক শিশু হাসপাতালে আসছে। তাদের নমুনা সংগ্রহ করার জন্য পর্যাপ্ত টেস্টিং কিট প্রয়োজন।

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের কাছে সীমিত সংখ্যক কিট রয়েছে। যদি এ রোগের লক্ষণ নিয়ে রোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়, তবে দ্রুতই কিট সংকট দেখা দিতে পারে।”

সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও জানান, হাম একটি মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ, যা মূলত আক্রান্ত রোগীর হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে বাতাসের সাহায্যে ছড়ায়। তাই এ মুহূর্তে অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের জনসমাগম থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : জ্বালানি সংকটে জামালপুরে সড়ক অবরোধ, আশ্বাসে স্বাভাবিক পরিস্থিতি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন