জুলাই আগস্ট আন্দোলনের পর সারা দেশের ন্যায় মৌলভীবাজারেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোটা ভেঙে পড়েছিল। সেখান থেকে একটু একটু করে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে গেলেও সম্প্রতি আবারও আইনশৃঙ্খলার অবনতি চরমভাবে লক্ষণীয়। প্রকাশ্যে এটিএম বুথের সামন থেকে টাকা ছিনতাই, বাসাবাড়িতে ডাকাতি, ধর্ষণ, মারপিট, ছুরিকাঘাত ঘটনা এখন জেলা সদরের নিত্য দিনের খবর। তারই মধ্যে মৌলভীবাজারের শীর্ষ সন্ত্রাসী গতকাল রাতে জামিনে মুক্তি পাওয়ায় যেন সেই উত্তেজনার আগুনে বারুদ পড়লো, এতে ক্ষুবে ফুঁসে ওঠেন সাধারণ ছাত্রজনতা।
মঙ্গলবার (৪ জুলাই) বৃষ্টি উপেক্ষা করেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গত (৪ আগস্ট) মৌলবীবাজারে ছাত্রদের উপর সরাসরি হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে এবং ছাত্রলীগ নেতা মৌলভীবাজারের শীর্ষ সন্ত্রাসী একাধিক হত্যা মামলার আসামি আনিসুল ইসলাম তুষারের জামিনের বিরোধিতা করে ডিসি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্রজনতা। আন্দোলনের দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরেও জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে কোন সদুত্তর না পাওয়ায়, ক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা ডিসি অফিসের গেইট বন্ধ করে ব্লকেড কর্মসূচী পালন করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা চলা এই ব্লকেড কর্মসূচিতে স্থবির হয়ে পরে জেলা প্রশাসনের র্কাযক্রম।

এর আগে জেলার আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও আওয়ামীলীগ পুনর্বাসনে কয়েকজন সাংবাদিককে স্বৈরাচারীর দোসর আখ্যায়িত করে প্রেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দেয় ছাত্র-জনতা, আওয়ামী ফেসিস্টদের সাথে তাদের ঘনিষ্ঠতার ছবির ব্যানারও টাঙিয়ে দেওয়া হয় প্রেসক্লাবের গেইটে।
এসময় ক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা বলেন, জুলাই মাসে শহীদ হওয়া ছাত্রদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জড়িতদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। বিচার শুরুর আগে কোনও অবস্থাতেই স্বৈরাচারের দুসররা যাতে জামিন না পায় তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সাংবাদিকদেরও বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়ে দলীয় সাংবাদিকতা বন্দের দাবি জানান ছাত্রজনতা।
পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা প্রশাসক মো: ইসরাইল হোসেন ও জেলা পুলিশ সুপার এম.কে.এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার সাথে কথা বললে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে, এসময় পুলিশ সুপার ২৪ ঘন্টার সময় চাইলে আর জেলাপ্রশাসক বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি ঘোষনার পর ব্লকেড অবরোধ তুলে নেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্রজনতা।
পড়ুন : আ.লীগ নিয়ে এনসিপি’র সমন্বয় কমিটি, মৌলভীবাজারে কেন্দ্রীয় সচিবকে অবাঞ্চিত ঘোষনা


