মণিপুরী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব হলো রাসলীলা। ১৭৭৯ সালে মণিপুরের মহারাজা ভাগ্যচন্দ্র স্বপ্ন দেখে নৃত্যগীতে যে প্রার্থনার শুরু করেছিলেন, সেটাই রাস উৎসব। ভাগ্যচন্দ্রের পরবর্তী রাজাদের বেশির ভাগই ছিলেন নৃত্যগীতে পারদর্শী এবং তারা নিজেরাও রাসনৃত্যে অংশ নিতেন। সেই ধারাবাহিকতায় মণিপুরী সম্প্রদায় আজও উদযাপন করে এই রাস উৎসব।
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর জোড়ামন্ডপ প্রাঙ্গনে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রাস উৎসব ও আদমপুরে মণিপুরি মৈতৈ সম্প্রদায়ের মহারাসোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি ছিল মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়া সম্প্রদায়ের ১৮৩তম ও মণিপুরি মৈতৈ সম্প্রদায়ের ৪০তম ধর্মীয় উৎসব। মূলত পূর্ণিমা তিথিকে সামনে রেখে এই উৎসবের মূল লীলা রাতে শুরু হয় চলে পরদিন ভোর পর্যন্ত । ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় বুধবার দুপুর থেকে রাখাল নৃত্যের (গোষ্ঠলীলা) মধ্যদিয়ে শুরু হয় এই ধর্মীয় উৎসব মহারাসলীলা। এ উপলক্ষ্যে সাদা কাগজের নকশায় নিপুন কারু কাজে আর আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয় মন্ডপগুলো। নৃত্য চলাকালীন সময় ভক্তরা মন্ডপে বাতাসা ছিটিয়ে বৃষ্টি করেন। সেই বাতাসা আবার ভক্তরাই কুঁড়িয়ে নেন।
এ দিন রাত ১১টার পর থেকে আনন্দ-উৎসাহে ঢাক-ঢোল আর শঙ্খ ধ্বনির মধ্যদিয়ে শুরু হয় মণিপুরী নৃত্যের ধ্রুপদ ভঙ্গিমায় রাধাকৃষ্ণের রাসনৃত্য। রাতভর রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলার নৃত্যগীতাভিনয় রাসলীলার পাশাপাশি তিনটি মন্ডপে তরুণীরাও রাসলীলায় অংশ নেন। উৎসবস্থলের উন্মুক্ত মঞ্চ প্রাঙ্গণে হয় গোষ্ঠলীলা বা রাখাল নৃত্য। এ উপলক্ষে উভয় জায়গায় বসে বিরাট মেলা। রাখাল নৃত্যের বিভিন্ন ধাপে রাধাকৃষ্ণের শৈশব, কৈশোর ও যৌবনকালের বিভিন্ন চিত্র ফুটে উঠে। নিজস্ব পোশাকে সজ্জিত হয়ে মণিপুরী তরুণ-তরুণীরা এতে অংশ নেন। যা দেখতে মৌলভীবাজার জেলার বাহির থেকেও অনেকে এই উৎসবে আসেন আনন্দ করার জন্য। দর্শনার্থীর পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ রাতে রাসউৎসবস্থলে ঢল নামে লাখো ভক্তবৃন্দের।
মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ জানান – মনিপুরী সম্প্রদায়ের বৃহতম এ উৎসব উপভোগ করতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের এখানে সমাগম ঘটে, মহা রাসলীলার মূল পর্ব একই সাথে তিনটি মন্ডপে শুরু হয় বুধবার রাত ১১টার পর, যার সমাপ্তি ঘটে পরদিন বৃহস্প্রতিবার ভোর ৬টায়।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর জানান – রাস উৎসবে পর্যটকসহ লাখো মানুষের ঢল নামে এ জেলায়, তাই উৎসবের আয়োজন ও মেলায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করে উপজেলা প্রশাসন।
রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গুণীজন সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক মো: ইসমাইল হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার এম,কে,এইচ, জাহাঙ্গীর হোসেন, মণিপুরি মহারাসলীলা সেবা সংঘের সভাপতি যোগেশ্বর সিংহসহ উপস্থিত ছিলেন সেবা সংঘের আর অনেক।
পড়ুন: পটুয়াখালীতে বিসিক উদ্যোক্তা মেলার উদ্বোধন
দেখুন: জয়পুরহাটে সিসিটিভিতে ধরা পড়লো অভিনব কায়দায় চুরি
ইম/


