মৌলভীবাজারে দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এক দিকে আনন্দ অন্য দিকে বিষাদের সুর আর চোখের জলে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার দিনে দেবী তার স্বামীর ঘর থেকে মর্ত্যে যাত্রা শুরু করনে আর বিজয়া দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তার সন্তান কার্তিক, গণেশ, লক্ষমী, সরস্বতীসহ কৈলাসে শ্বশুরবাড়ি ফিরে যান।
বৃহস্প্রতিবার (২ অক্টোবর) সকালে জেলার সব পূজা মন্ডপে দেবী দুর্গার বিজয়া দশমী বিহিত পূজার মাধ্যমে পালিত হয় দশমী। সকাল থেকে পুষ্পাঞ্জলি নেয়ার পাশাপাশি মায়ের প্রতিমা দর্শন করতে হিন্দু ভক্তবৃন্দরা বিভিন্ন মন্ডপে মন্ডপে ভিড় করেন।
এরপর পূজার সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। আইনশৃঙ্খলার বাড়তি সতর্কতায় শঙ্খ, উলুধ্বনি, খোল-করতাল, ঢাক-ঢোল ও গান বাজনার সঙ্গে প্রতি বছরের মতো এবারও বিসর্জনের প্রধান স্থান মৌলভীবাজার শহরের মনু নদীর ঘাটে সব মন্ডপের দুর্গা প্রতিমা ট্রাকে করে নিয়ে এসে বিসর্জন দেওয়া হয়। বিসর্জনে অংশ নেন নারী, শিশুসহ সকল বয়সের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।
এসময় বিসর্জন ঘাট পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মো: ইসরাইল হোসেন, পুলিশ সুপার এম, কে, এইচ, জাহাঙ্গীর হোসেন, পৌরসভার প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মোসা: শাহীনা আক্তার, র্যাব ও আইনশৃঙ্খলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিতে শতাধিক পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশের পাশাপাশি ছিল সেনাবাহিনীও।
গত রোববার (২৮সেপ্টেম্বর) মহালয়ার ছয় দিন পর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব। পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজার জেলায় এবার সার্বজনীন ও ব্যক্তিগত মিলিয়ে মোট ১হাজার ৮টি মন্ডপ-মন্দিরে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গেল বছর এখানে ৯৯৫টি পূজা মন্ডপে দূর্গাপূজা হয়েছিল, সেই হিসেবে অনুযায়ি এবছর পূজা মন্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে মৌলভীবাজারে।
এ.এস.কাঁকন, জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার।
পড়ুন :মৌলভীবাজার শারদীয় দুর্গোৎসবে সুবিধাবঞ্চিতদের বস্ত্র বিতরণ


