যশোর শহরের শংকরপুরে চাঞ্চল্যকর বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন (৫৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে বড় সাফল্য পেয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। মামলার অন্যতম সহযোগী মনিরুল ইসলামকে (২৮) গ্রেপ্তারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কালো রঙের একটি ‘সুজুকি জিক্সার’ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃত আসামি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে শংকরপুর ইসহাক সড়ক সংলগ্ন হুদা মেমোরিয়ালের পাশে সাবেক কাউন্সিলর নয়নের অফিসের সামনে ফিল্ম স্টাইলে আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি তার নিজ মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা পেছন থেকে তাকে অনুসরণ করে চলন্ত অবস্থায় মাথার পেছনে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর থেকেই ডিবি যশোরের এসআই (নিঃ) অলক কুমার দে-র নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম তদন্ত শুরু করে। ইতিপূর্বে এই হত্যাকাণ্ডের মূল শুটার ত্রিদিপ চক্রবর্তী মিশুকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাত ৭টা ২৫ মিনিটে ঝুমঝুমপুর শিক্ষক পাড়া এলাকা থেকে মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মনিরুলের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ওই রাতেই ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে কোতোয়ালী মডেল থানা এলাকার উপজেলা পরিষদের বিপরীতে বন বিভাগ সংলগ্ন রাস্তার পাশ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সেই মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে ডিবি টিম।
গ্রেপ্তারকৃত মনিরুল ইসলাম যশোর শহরের ষষ্ঠিতলা পাড়া (সার্কিট হাউজ মোড়) এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে। বর্তমানে তিনি ঝুমঝুমপুর এলাকায় বসবাস করতেন।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর মনিরুলকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। আজ ১ মার্চ ২০২৬ তারিখ তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিবির এসআই অলক কুমার দে পিপিএম জানান, মামলার তদন্ত এবং অন্যান্য আসামিদের ব্যাপারে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের জট অনেকটাই খুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

