যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের মুনসেফপুর গ্রামের হাজিপাড়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এবতেদায়ী মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জানান মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মোঃ আব্দুল গফফার। গত ১৯ ডিসেম্বর ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এদিকে মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর লুটপাটের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, এ ঘটনায় ওই এলাকার মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে দ্বীন মোহাম্মদ, ইব্রাহিম খলিলসহ ৮জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১০/১৫ নামে সদর কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগ সুত্র ও স্থানীয়রা জানান, কচুয়া ইউনিয়নের মুনসেফপুর মৌজায় আখিরন নেছা নামে এক নারীর দানকৃত ৪০ শতক জমিতে প্রতিষ্ঠিত ‘মুনসেফপুর পূর্বপাড়া এবতেদায়ী মাদরাসার জমি নিয়ে স্থানীয় ইব্রাহিম, দ্বীন মোহাম্মদ এর পরিবারের সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে এবং ইব্রাহিম ও দ্বীন মোহাম্মদ গং জমি নিজেদের দাবী করে দ্বীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসাটি উচ্ছেদের পায়তারা করে আসছিলো, ওই বিরোধের জেরে গত ১৯ তাং ভোরে মাদ্রাসায় ব্যাপক ভাংচুর করে লুটপাট চালায়।
এবিষয়ে মাদরাসার পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আব্দুল গফফার জানান মাদ্রাসার জায়গা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় মাদ্রাসা কতৃপক্ষ আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত ১৯ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দ্বীন মোহাম্মাদ, ইব্রাহিম খলিল সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মাদরাসায় প্রবেশ করে ব্যাপক ভাংচুর করে লুটপাট চালায়।
তিনি আরও জানান, হামলাকারীরা রামদা, লোহার শাবল, হাতুড়ি ও রড নিয়ে পরিকল্পিতভাবে মাদরাসার টিনের চাল, বেড়া, টেবিল-চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে লুটপাট চালায়। এতে প্রতিষ্ঠানটির আনুমানিক ৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। হামলার খবর পেয়ে সভাপতি সহ স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে বিবাদীরা তাদের মারপিট এবং খুন-জখমের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে আরও লোকবল নিয়ে এসে জমি ও মাদরাসার জায়গা দখল করে নেওয়ার হুমকি দিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
অভিযোগের বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন জানান লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এদিকে, এই ঘটনার পর থেকে মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পবিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
পড়ুন: শহীদ ওসমান হাদি: এক বিপ্লবীর অসমাপ্ত গল্প
আর/


