রবিবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। যদিও আজ শনিবার দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব শুরু হয়েছে।
সারাদেশের মতো যশোরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি ঘরে ঘরে এখন উৎসবের আমেজ। মন্দির গুলো সেজেছে বর্ণিল সাজে। প্রতিমা সাজানো, আলোকসজ্জা, ধূপ-ধুনো, ঢাক-ঢোল সব মিলিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মিলনমেলা।
এদিকে প্রতিবারের মতো এবারও যশোরে শারদীয় দুর্গোৎসবের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ। শনিবার লাল দিঘীপাড়স্থ হরিসভা মন্দিরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ বলেন, এবার যশোর ৭০৮ টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যা গতবারের তুলনা ৫৪ টি বেশি মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা, স্বতঃস্ফূর্ত উদ্দীপনা এবং আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক এবং সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে। জেলায় অনুষ্ঠিতব্য ৭০৮ টি পূজার মধ্যে শার্শা উপজেলায় ২৯, ঝিকরগাছায় ৫৪, চৌগাছায় ৪৮ , যশোর সদরে ১৬৫, বাঘারপাড়া ৯১, মনিরামপুরে ১৭ , অভয়নগরে ১২৬ এবং কেশবপুরে ৯৮ টি মন্দিরে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা, উপজেলা, ও পৌর শাখা সমূহের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করে যৌথভাবে নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তিনি ব্যাক্তিগত পক্ষ থেকে সদর উপজেলা এবং যশোর পৌরসভার ১৬৫ টি মন্দিরে নগদ অর্থ এবং শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। একই সাথে তার দলের পক্ষ থেকে জেলার অন্যান্য উপজেলার সকল মন্দিরে নগদ অর্থ পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলসমূহ পূজা উদযাপন পরিষদের সাথে মতবিনিময় করে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছেন। মন্দির কেন্দ্রিক সর্বধর্মের মানুষের সমন্বয়ে একটি সুরক্ষা কমিটি গঠন, নারী পুরুষের আলাদা আগমন নির্গমনের পথ, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পালাক্রমে স্বেচ্ছাসেবী দিয়ে পাহারা দেবার পরিকল্পনা, বিকল্প আলোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জেলা উপজেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা ও উপজেলা শাখা কন্ট্রোল রুম স্থাপন করে প্রতি মুহূর্তে নজরদারি করছে। ভবদহ জলাবদ্ধ এলাকায় পূজা আয়োজন এর ক্ষেত্রে ভক্তবৃন্দ আর্থিক সংকটে ভুগছেন এমনকি তারা বাড়ির সদস্যদের নতুন জামা কাপড় কিনে দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, যশোর জেলা শাখা তাদের পাশে সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়িয়েছে। শারদীয় দুর্গোৎসব সকলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সাড়ম্বরে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় সম্পন্ন হবে। যশোর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে। এবারও তার কোন ব্যতিক্রম হবে বলে আমরা মনে করছি না। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকার দাস রতন, সহ-সভাপতি দুলাল সমাদ্দার, দপ্তর সম্পাদক অজয় সিংহ রায় প্রমুখ।
উল্লেখ্য পাঁচ দিনের এ উৎসব শেষ হবে আগামী ২ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। এবার দেবী দুর্গার আগমন হয়েছে হাতির পিঠে চড়ে। আর দশমীতে দেবী মর্ত্যলোক ছাড়বেন দোলা বা পালকিতে চড়ে।
পড়ুন: মেহেরপুরে বিএনপির গণসংযোগ ও পথসভা
দেখুন: পুতিনের নিরাপত্তা বহর, চমকে গেলেন ট্রাম্প!
ইম/


