বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল ঘোষণা মালয়েশিয়ার

মালয়েশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি বাতিল ঘোষণা করেছে। দেশটির বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী জোহারি আব্দুল গনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড’ শীর্ষক এই চুক্তি এখন থেকে অকার্যকর বলে গণ্য হবে এবং এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। খবর নিক্কেই এশিয়ার।

গত বছরের ২৬ অক্টোবর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তির আওতায় মালয়েশিয়ায় তৈরি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপের পাশাপাশি কিছু পণ্য শুল্কমুক্ত রাখার সুবিধা দেয়া হয়। বিনিময়ে মালয়েশিয়া মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার ও বিভিন্ন নীতি-সহায়তা প্রদান করে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি বাতিল করে দেয়ায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে করা দেশটির বাণিজ্য চুক্তির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করলো মালয়েশিয়া।

বর্তমানে মার্কিন সরকার ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারা ব্যবহার করে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ওপর অস্থায়ীভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করছে, যা আগামী ১৫০ দিন বলবৎ থাকবে।

মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী জোহারি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে কোনো শুল্ক বসাতে চায়, তবে তা নির্দিষ্ট খাত ও যৌক্তিক কারণের ভিত্তিতে হতে হবে। শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতির অজুহাত দেখানো যাবে না; বরং যে খাতে সমস্যা, তাকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

২০২৫ সালে মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩৩ বিলিয়ন রিঙ্গিত। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে বৈদ্যুতিক ও ইলেক্ট্রনিকস পণ্য, তেল ও গ্যাস, পাম তেল ও রাবারভিত্তিক শিল্প। এসব পণ্যের ওপর যেকোনো শুল্প আরোপ মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

মন্ত্রী আরও জানান, এ অবস্থায় মালয়েশিয়ার রফতানিকারকদের আন্তর্জাতিক শ্রম ও পরিবেশগত মান কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে বাণিজ্যে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়।

মালয়েশিয়ার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও ভারত যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি মেনে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে শুল্ক প্রদান এবং বিভিন্ন খাতে ছাড় দিলেও সর্বশেষ মার্কিন আদালতের রায়ে এসব চুক্তির প্রায় সব অগ্রাধিকারমূলক সুবিধাই কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : কাতারের প্রধানমন্ত্রীর চলমান যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন