বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খনিজ চুক্তি স্বাক্ষরে প্রস্তুত ইউক্রেন

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে নজিরবিহীন একটি বাগবিতণ্ডা ঘটে, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ওই ঘটনার পর ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হওয়ার কথা ছিল, তবে তা বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তার দেশ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খনিজ সম্পদ নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৩ মার্চ) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, গত শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে কোনো চুক্তি ছাড়াই ফিরে আসলেও, তার দেশ এখনও খনিজ সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা গঠনমূলক সংলাপে আগ্রহী, তবে আমি চাই আমাদের অবস্থানটাও শোনা হোক।” তিনি আরও জানান, যদি যুক্তরাষ্ট্র আবার তাকে ডাকেন, তিনি প্রস্তুত রয়েছেন ট্রাম্পের সঙ্গে পুনরায় বৈঠক করতে, তবে তিনি তার শর্ত জানাতে চান। তার মতে, ইউক্রেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থাও বিবেচনা করা উচিত।

প্রসঙ্গত, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু বৈঠকের মধ্যেই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ঘটে, যার কারণে খনিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। এমনকি, চুক্তি বাতিল হওয়ার পর জেলেনস্কি হোয়াইট হাউস থেকে মধ্যাহ্নভোজ না করেই বেরিয়ে যান। পরবর্তীতে তিনি ব্রিটেনে যান এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খনিজ চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন,

“আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও প্রস্তুত থাকবে। হয়তো কিছু বিষয় বিশ্লেষণ করার জন্য তাদের কিছু সময় প্রয়োজন।” তিনি আরও জানান, ইউক্রেনের বন্ধু দেশগুলো যেন মনে রাখে, এই যুদ্ধে মূল আগ্রাসী ছিল কে, এবং কারা যুদ্ধ শুরু করেছিল।

জেলেনস্কি বর্তমানে ব্রিটেনে আছেন এবং সেখান থেকে তিনি জানান, ইউক্রেন ইউরোপ থেকে পূর্ণ সমর্থন পেয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা শান্তি চাই, বিরামহীন যুদ্ধ নয়। নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এই শান্তির চাবিকাঠি।” তিনি ইউক্রেনের প্রতিরোধ সম্পর্কে বলেন, “আমাদের বন্ধু দেশগুলোর সাহায্যের ওপরই আমাদের প্রতিরোধ নির্ভরশীল।”

এদিকে, ইউক্রেন সংকট নিয়ে লন্ডনে একটি সম্মেলনে যোগ দেন জেলেনস্কি। সম্মেলনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও জোটের নেতারা অংশ নেন এবং ইউক্রেনের সহায়তায় চারটি মূল বিষয়ে মতৈক্য প্রকাশ করেন। এই চারটি বিষয় হলো— ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখা, রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করা, স্থায়ী শান্তির জন্য ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে রাশিয়ার আক্রমণ ঠেকানোর লক্ষ্যে ইউরোপের নেতাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং কিয়েভের সুরক্ষার জন্য একটি জোট গঠন করতে হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য ইউক্রেনকে ১৬০ কোটি পাউন্ড সহায়তা দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে ইউক্রেনের জন্য পাঁচ হাজারেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হবে।

সম্মেলনে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন, পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং জার্মানির বিদায়ী চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজও ইউক্রেনের নিরাপত্তা এবং পূর্ব সীমান্ত সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক স্কোফও ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউরোপকেই নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে, আর সেই জন্য একত্রে কাজ করা প্রয়োজন।

পড়ুনঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশা করছেন ইউক্রেন শিগগিরই খনিজ চুক্তি মেনে নেবে

দেখুনঃ আমেরিকার গোপন অ/স্ত্র; এতোই ভয়ংকর যে বিক্রি করা নিষিদ্ধ 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন