বিজ্ঞাপন

যেভাবে উদ্‌যাপিত হয় আলোর উৎসব দীপাবলি?

দুর্গাপূজার ১৮ দিন পর অমাবস্যার সন্ধ্যায় প্রদীপের আলোয় ঝলমল হয়ে ওঠে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিটি লোকের বাড়ির কোণ। আলোর এ উৎসবকে হিন্দুধর্মে বলা হয় দিওয়ালি বা দীপাবলি উৎসব।

হিন্দু সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব দীপাবলি ও শ্যামাপূজা আজ সোমবার (২০ অক্টোবর)। এদিন বিশ্বের বিভিন্ন জায়গার অবস্থানরত সব হিন্দুই নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় এ উৎসবটি উদ্‌যাপন করে থাকেন। কিন্তু জানেন কি, কেন প্রদীপের আলো দিয়ে বিশেষ এ দিনটিকে উদ্‌যাপন করা হয়?

‘দীপাবলি’ শব্দটির অর্থ ‘প্রদীপের সমষ্টি’ বা ‘আলোর সারি’। হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী, আশ্বিন মাসের কৃষ্ণা ত্রয়োদশীর দিন ধনতেরাস অথবা ধনত্রয়োদশী অনুষ্ঠান বা লক্ষ্মীপূজার মধ্য দিয়ে দীপাবলি উৎসবের সূচনা হয়। আর এ উৎসব শেষ হয় কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে ভাইফোঁটা অনুষ্ঠানটির মধ্য দিয়ে।

সনাতন ধর্মের বিভিন্ন ধর্মীয়গ্রন্থ থেকে জানা যায়, এক নয়, একাধিক কারণ রয়েছে দীপাবলির দিন আলোর উৎসবে মেতে ওঠার।

জীবনের সব অন্ধকারকে দূরে সরিয়ে আলোকে আমন্ত্রণ জানানোর অভিলাষে এ দিন হিন্দুরা ঘরের প্রতিটি কোণ আলোকিত করে তোলে। এ ছাড়া আরও রয়েছে নানা মুনির নানা মত।

প্রথমেই বলা যায়, রামকাহিনির কথা। এই দিনটিতে ভগবানের অবতার রাম পিতৃসত্য পালনে ১৪ বছর বনবাসে কাটানোর পর নিজ রাজ্য অযোধ্যায় ফিরে আসে। অমাবস্যার সেই রাতকে আলো দিয়ে ভরিয়ে তোলে অযোধ্যাবাসী। আর সেই দিনটিকে স্মরণ করে হিন্দুরা পালন করে দীপাবলি উৎসব।

এই দিনটিকে আলো দিয়ে ভরিয়ে তোলার আরেকটি কারণ হলো এই দিনে বড় করে হিন্দু সম্প্রদায় লক্ষ্মী আর গণেশ পূজার আয়োজন করে। ধন সম্পদ আর সাফল্যের এই দেবদেবীকে শ্রদ্ধা জানাতেও আলোকিত করে তোলা হয় প্রতিটি পথ।

স্বর্গের দেবতাকে মর্ত বা এই পৃথিবীকে বরণ করে নিতেও আলোর এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। তাছাড়া হিন্দুরা বিশ্বাস করেন, জীবনে সুখ, শান্তি, আনন্দ, উন্নতি, সুস্বাস্থ্য, নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা, দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি উজ্জ্বলতর করে তুলতে আলোর বিকল্প নেই। তাই প্রতীকী অর্থে আলোর উৎসবের মাধ্যমে আলোর পথকে স্বাগত জানান তারা।

অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক হিসেবে ধরা হয় শুভ দিওয়ালি বা দীপাবলিকে। আর তাই জীবনের সব অন্ধকারকে দূরে ঠেলে দিয়ে আলোর পথযাত্রী হওয়ার প্রত্যাশায় প্রতিবছর এ তিথিতে উদ্‌যাপন করা হয় দিওয়ালি বা দীপাবলি নামের এই আলোর উৎসব।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বাংলাদেশে প্যালিয়েটিভ কেয়ার পাচ্ছে মাত্র ০.৫ শতাংশ রোগী

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন