রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৪তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের অন্যতম নাট্যসংগঠন প্রাঙ্গণেমোর তাদের বহুল প্রশংসিত নাটক ‘শেষের কবিতা’ নতুন আঙ্গিকে মঞ্চে আনছে। আগামী ৮ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে এই নাটকের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
নাটকটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রুতিমধুর ও দার্শনিক প্রেম উপন্যাস ‘শেষের কবিতা’ অবলম্বনে নির্মিত। নাট্যরূপ দিয়েছেন অনন্ত হিরা এবং নির্দেশনায় আছেন নূনা আফরোজ। এইবারের প্রযোজনায় নতুন ভাবনা ও উপস্থাপনাভঙ্গি নাট্যপ্রেমীদের জন্য এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
নাটকে অভিনয় করেছেন অনন্ত হিরা, নূনা আফরোজ, ইউসুফ রাসেল, সাহেদ সরদার, গুলশান বহ্নি, নাসরীন মিশু, বাঁধন সরকার, তমা হোসেন, সীমান্ত আমীন, তন্বী ইসলাম মিষ্টি, ফাহিম মুনতাসির, নাঈম হাসান ও ফারজু ফারহান।
মঞ্চ পরিকল্পনায় ফয়েজ জহির, আলোক পরিকল্পনায় তোফিক আজীম রবিন, সংগীতে রামিজ রাজু, পোশাক পরিকল্পনায় নূনা আফরোজ, কোরিওগ্রাফিতে ইভান শাহরিয়ার সোহাগ এবং রূপসজ্জায় ছিলেন জনি সেন।
‘শেষের কবিতা’ নাটকটি এক বৈচিত্র্যময় প্রেমগাথার মঞ্চায়ন। শিলং পাহাড়ের পথে হঠাৎ দুর্ঘটনায় দেখা হয় বিলেত ফেরত ব্যারিস্টার অমিত রায় ও মননশীল লাবণ্যর। সময়ের সাথে সাথে তাদের সম্পর্ক রূপ নেয় প্রেমে। কিন্তু দুজনের চিন্তাধারার পার্থক্য, আত্মসম্মানবোধ এবং অতীতের টানাপোড়েন তাদের ভালোবাসাকে এক অনন্য দ্বিধায় ফেলে।
অমিতের পুরনো সঙ্গী কেতকীর আবির্ভাবে এই সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত না অমিত পায় লাবণ্যকে, না কেতকী ফিরে পায় তার অতীতকে। নাটকের সমাপ্তি হয় এক মর্মস্পর্শী চিঠি ও দীর্ঘ কবিতার মাধ্যমে, যা হয়ে ওঠে ‘শেষের কবিতা’— একটি প্রেমের শেষ না হওয়া ধ্বনি। প্রাঙ্গণেমোর-এর এই নাট্য প্রযোজনা দর্শকদের নতুনভাবে ভাবাবে প্রেম, সম্পর্ক ও আত্মপরিচয়ের জটিলতার দিকে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

