রমজান মাসে আমাদের খাবারের ধরন ও সময়সূচিতে স্বাভাবিকভাবে কিছু পরিবর্তন এসে থাকে। এ সময় সাহরি ও ইফতার আইটেমের দিকে আমরা সচরাচর একটু বিশেষ সচেতন থাকলেও চা প্রেমীদের অনেকেই ইফতার করার পরপরই চা-কফি পান করেন। কিন্তু স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ হিসেবে মনে রাখা উচিত, রমজানে শরীরের হাইড্রেশন সাইকেল ও হরমোনাল ছন্দ কিছুটা পরিবর্তিত হয়। এ জন্য চা-কফি পান, অর্থাৎ ক্যাফেইন গ্রহণের সময় নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ।
ইফতার করার দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে ইনসুলিন হরমোন ও হজমপ্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে। ফলে পাকস্থলী তখন খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকে। এ সময় ক্যাফেইনের শোষণ ধীরে হয় এবং অ্যাসিডিটি কম হয়। এ জন্য ইফতার শেষ করার অন্তত এক ঘণ্টা পর ১ বা সর্বোচ্চ ২ কাপ চা-কফি পান করা যেতে পারে।
পুষ্টিবিদ প্রিয়ানা বলেন―
খালি পেটে এবং ঘুমানোর আগ মুহূর্তে ক্যাফেইন গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা, যদি ভুল সময় চা-কফি পান করেন, তাহলে ডিহাইড্রেশন, মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড় বা অস্বস্তি, গ্যাসট্রিকের সমস্যা, ঘুম কমে যাওয়া এবং পরদিন ক্লান্তি অনুভব হতে পারে। বিশেষত রমজানে পানি কম পান হলে এই প্রভাবগুলো বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ পুষ্টিবিদ অবশ্য ক্যাফেইন গ্রহণের বিকল্প উপায়ও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যাদের চা-কফি পানের প্রবণতা বেশি, তারা গ্রিন টি পান করতে পারেন। গ্রিন টি-এ ক্যাটেচিন নামক শক্তিশালী আ্যন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। পাশাপাশি গ্রিন টি-তে চা-কফির তুলনায় কম ক্যাফেইন থাকে এবং এটিতে রয়েছে আ্যন্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান। যা মেটাবলিজম উন্নত করতে সহায়ক, বদহজম কমায় ও ফ্যাট বার্নে সহায়ক। এমনকি ব্লাডে সুগার নিয়ন্ত্রণ, হৃদস্বাস্থ্য উন্নত করতে, ত্বক ভালো রাখতে ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়ক।
সবশেষ প্রিয়ানা বলেন, পানীয় পানের ক্ষেত্রে অবশ্যই চিনি ছাড়া গ্রহণ করতে হবে এবং পরিমিত গ্রহণ করা উচিত। যদি কেউ সাহরিতে চা বা কফি পান করতে চায়, অন্তত সাহরি খাওয়ার ৩০-৪০ মিনিট পূর্বে পান করা উচিত। তবে এ সময় ক্যাফেইন গ্রহণ না করাই উত্তম।
পড়ুন:ভিভো ওয়াই৩১ডির অ্যান্থেমে ঝড় তুলবেন জেফার–মুজা
দেখুন:ভালোবাসার টানে আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে মার্কিন তরুনী সামান্থা |
ইমি/


