পবিত্র মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে Abdus Sattar Foundation, সমাজের অসহায়, দুস্থ, প্রবীণ ও কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নানা ধরনের সহায়তা প্রদান করে সংগঠনটি মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নগদ অর্থ সহায়তা, ইফতার সামগ্রী বিতরণ, লুঙ্গি প্রদান, কম্বল বিতরণ, সেলাই মেশিন হস্তান্তর, নতুন রিকশা প্রদান, হুইলচেয়ার বিতরণসহ নানা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল—তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা।
মাদ্রাসায় লুঙ্গি বিতরণ ও ইফতার মাহফিল
রমজানের শুরুতেই একটি মাদ্রাসায় ছাত্র ও শিক্ষকদের মাঝে ৩০ পিস লুঙ্গি বিতরণ করা হয়। একইসঙ্গে নগদ অর্থ সহায়তাও প্রদান করা হয় কয়েকজন অসচ্ছল ব্যক্তির হাতে। আয়োজকরা জানান, রমজান সংযম, সহমর্মিতা ও দানের মাস—এই শিক্ষা ধারণ করেই তারা সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।
রমজানের বরকতময় সময়ে একটি মাদ্রাসায় আয়োজন করা হয় ইফতার মাহফিল। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একসাথে ইফতারে অংশ নেন ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। ছোট ছোট হাফেজ ও তালিবে ইলমদের উপস্থিতিতে আয়োজনটি ছিল আবেগঘন ও আনন্দমুখর। সংশ্লিষ্টরা জানান, এমন আয়োজন পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও ইমানি বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।
কান্দাপাড়ায় খেজুর বিতরণ:
রমজানের অন্যতম সুন্নত খাবার খেজুর বিতরণ করা হয় সিরাজগঞ্জের কান্দাপাড়া এলাকায়। ইফতারের সময় অসহায় মানুষের হাতে খেজুর তুলে দিয়ে তাদের সঙ্গে সময় কাটান সংগঠনের সদস্যরা। উপকারভোগীরা জানান, ছোট এই উপহার তাদের মনে এনে দিয়েছে তৃপ্তি ও কৃতজ্ঞতার অনুভূতি।
শীতে কম্বল বিতরণ:
শীত মৌসুমে অসহায়, দুঃস্থ ও বৃদ্ধ মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। অনেকের ঘরে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় কনকনে ঠান্ডায় তারা কষ্ট পাচ্ছিলেন। একটি নতুন কম্বল হাতে পেয়ে উপকারভোগীদের চোখে ফুটে ওঠে স্বস্তির ছাপ। আয়োজকরা বলেন, একটি কম্বল শুধু শীত নিবারণের উপকরণ নয়—এটি নিরাপত্তা ও মানবিক সহমর্মিতার প্রতীক।
নারীদের স্বাবলম্বিতায় সেলাই মেশিন:
দারিদ্র্য দূরীকরণে কর্মসংস্থানের বিকল্প নেই—এই বিশ্বাস থেকে কয়েকজন গরিব, অসহায় ও বিধবা নারীর মাঝে সেলাই মেশিন ও সনদ বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের মতে, এটি কেবল অনুদান নয়; বরং একটি নতুন জীবনের সূচনা। একটি সেলাই মেশিন একটি পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত শক্ত করতে সহায়তা করবে এবং নারীদের আত্মসম্মান ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি করবে।
নতুন রিকশা ও নগদ সহায়তা:
একজন উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে নতুন রিকশা হস্তান্তর করা হয়, যাতে তিনি সম্মানের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন। এছাড়া একজন বয়স্ক রিকশাচালককে নগদ অর্থ সহায়তা এবং এক অসহায় বৃদ্ধাকে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাহায্য মানে শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়—বরং এমন ব্যবস্থা করে দেওয়া, যা একজন মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম করে।
প্রবীণদের জন্য হুইলচেয়ার:
একজন প্রবীণ ব্যক্তির চলাচলের সুবিধার্থে একটি হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এটি তার স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজ সম্পাদনে সহায়ক হবে। তারা বলেন, প্রবীণ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবসেবা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রিজ উপহার:
রেলওয়ে কলোনি মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে ফ্রিজ অকেজো থাকায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের খাদ্য সংরক্ষণে সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল। বিষয়টি জানার পর ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে Vision Electronics-এর Vision 566 Black Model–এর একটি নতুন ফ্রিজ উপহার দেওয়া হয়। নতুন ফ্রিজ পেয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী আব্দুস সাত্তার বলেন, “মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় ইবাদত। আমরা বিশ্বাস করি, সামর্থ্য অনুযায়ী সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেকের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে ফাউন্ডেশন।
স্থানীয় সচেতন মহল ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এমন ধারাবাহিক মানবিক কার্যক্রম সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


