ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ‘তারেক রহমান: ফ্রম এক্সাইল টু এজ অব পাওয়ার’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জয়ের মধ্যদিয়ে তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডনে দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার পর দুই মাসেরও কম সময় পর বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয় পেতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন তারেক রহমান। দিতে পারেন দেশের নেতৃত্ব যেমনটা তার বাবা-মা দিয়েছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডনে যাওয়ার পর টানা ১৭ বছর বিদেশে অবস্থান করেন তারেক রহমান। গত ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে দ্রুতই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে সক্রিয় হন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে উঠে আসেন।
রয়টার্স বলেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেই সুযোগেই তারেক রহমানের উত্থান ঘটেছে। এই পরিবর্তনকে অনেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধারায় এক অভাবনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে দেখছেন।
নির্বাচনী প্রচারে তারেক রহমান একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে এমন সাংবিধানিক সংস্কার আনা হবে, যাতে কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারেন। তার মতে, এতে করে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হবে।
অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও তারেক রহমান বেশ কিছু অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন। তিনি দরিদ্র পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর কথা বলেছেন, পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শুধু তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর না থেকে খেলনা, চামড়াজাত পণ্যসহ নতুন শিল্প খাত গড়ে তুলে অর্থনীতিকে বহুমুখী করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রশ্নে রয়টার্স জানায়, তারেক রহমান ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ নীতিতে বিশ্বাসী হওয়ার কথা বলেছেন। কোনো একক দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য ক্ষমতায় আসা নয়, বরং বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরুকরণে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।
একদিকে তিনি তার বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন, অন্যদিকে নিজেকে একজন নীতিনির্ধারক ও ভবিষ্যতমুখী নেতা হিসেবে তরুণ ভোটারদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
মাঠপর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি এবং ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তাকে এই নির্বাচনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বা ‘ফ্রন্টরানার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তারেক রহমানের দীর্ঘ ‘নির্বাসন থেকে ক্ষমতার পথে’ যাত্রা চূড়ান্ত পরিণতি পায় কি না।
পড়ুন : ২৯৯ আসনে সব ব্যালট পৌঁছেছে


