রাঙামাটির কাউখালী উপজেলা ঘাগড়া ইউনিয়নে সেনাবাহিনী ও ইউপিডিএফের মধ্যে গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৪ জুন) ভোরে উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের মোন পাহাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর থেকে সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়েছে, ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) গোপন আস্থানা ও সন্ত্রাসীদের ধরতে রাঙামাটির দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনী অভিযান চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে সেনাবাহিনীর একটি টহল দলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ইউপিডিএফ। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এসময় তিনজনকে সেনাবাহিনী আটক করেছে বলে জানা যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযান চলছে।
কাউখালী উপজেলার ৩ নম্বর ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিন জানান, সকালে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোন পাড়া এলাকায় একটা গোলাগুলির ঘটনার খবর পেয়েছি। এতে বেশ কিছু গোলাবারুদসহ তিন জনকে আটক করা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে সেনাবাহিনী না পুলিশ কারা আটক করেছে, তা জানি না।
ঘাগড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মন্টু রঞ্জন চাকমা জানান, সকালে একটা ঘটনা ঘটেছে। তবে বিস্তারিত কী হয়েছে সেটা জানি না। তবে এ ব্যাপারে জানতে কাউখালী থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম সোহাগকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে, আটক ব্যক্তিরা সাধারণ গ্রামবাসী; ইউপিডিএফ সদস্য নয় বলে দাবি করেছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। বিকেলে সংবাদ মাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফ মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেন, আজ ভোর সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে সেনাবাহিনী ও জনসংহতি সমিতি সন্তু গ্রুপ মিলে কজোইছড়ি মোন পাড়া এলাকায় হানা দেয়। এসময় তারা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য এলোপাথাড়ি মুহুর্মুহু গুলি বর্ষণ করে।
তাদের ছোঁড়া গুলিতে ঘাগড়া ইউপির ডানে উল্ল গ্রামের ৪৫ বছর বয়সী এক গ্রামবাসী (জুমচাষী) আহত হন। এসময় তিনি বাড়ি থেকে বাহিরে টয়লেটে যাচ্ছিলেন। তার ডান পায়ে একটি গুলি বিদ্ধ হয়।অন্যদিকে উত্তর মোনপাড়া থেকে পিতা-পুত্রসহ তিন নিরীহ গ্রামবাসীকে আটক করে স্থানীয় একটি স্কুলঘরে নিয়ে আটকে রাখে এবং তাদের ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালায়।
ভুক্তভোগীরা হলেন- মনসুখ চাকমা (৫০), সিন্ধু মনি চাকমা (২৩) এবং অন্তর চাকমা(১৯)। তারা সবাই ৩ নম্বর ঘাগড়া ইউনিয়নের উত্তর মোনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পরে ‘অস্ত্র-গুলি উদ্ধার’ নাটক সাজিয়ে এবং তাদেরকে ইউপিডিএফ সদস্য পরিচয় দিয়ে ছবি তুলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সরবরাহ করে এবং উক্ত সরবরাহকৃত মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে কিছু মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। মিথ্যা প্রচার বন্ধ করে অবিলম্বে আটককৃত নিরীহ গ্রামবাসীদের মুক্তি এবং আহত ব্যক্তির চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানান।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

