২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করে রাঙামাটি জেলার প্রথম ইকো রিসোর্ট রাইন্যা টুগুন। পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় পর্যটনের বিকাশের স্বার্থে পর্যটকদের জন্য পরিবেশবান্ধব পরিবেশে থাকা এবং পর্যটনকে সামাজিক ব্যবসা হিসেবে ধারণা দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েই গড়ে উঠে রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট। বিগত দেড় দশক সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি ৩৫ একর ভূমি নিয়ে বিস্তৃত পুরো রিসোর্টে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ লাগিয়েছে। একদিকে উদ্ভিদ সংরক্ষণ এবং আরেকদিকে প্রকৃতি-প্রতিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলায় ইকো রিসোর্টের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। তবে আলোর পথ দেখিয়েছে রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্টই।

রাইন্যা টুগুনের ৩৫ একর জায়গায় প্রায় ২১০ প্রজাতির অধিক উদ্ভিদ রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ফলজ, বনজ ও ঔষধি উদ্ভিদও। এছাড়া ৮-১০ থেকে প্রজাতির অর্কিড সংগ্রহ করেছে রাইন্যা টুগুন। পর্যটকদের জন্য রয়েছে নানান উদ্যোগ। এরমধ্যে তাবুতে রাত্রিযাপন-ক্যাম্পিং, কাপ্তাই হ্রদের পানিতে কায়াকিং, পিকনিট স্পট, ভিলা বা কটেজের ব্যবস্থা। শহরের অদূরে, প্রকৃতির মাঝে এমন মনোরম পরিবেশ রাইন্যা টুগুনে আসা পর্যটকদের মন কেড়ে চলেছে। এছাড়া ঘন গাছগাছালির মাঝে আশ্রয় খুঁজে নিয়েছে নানান বুনো প্রাণী ও পাখি।

এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্টের স্বত্ত্বাধিকারী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ললিত সি. চাকমা বলেন, ২০০৯ সালে ৩৫ একর জায়গা নিয়ে রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট গড়ে তোলা শুরু করি। শুরুতে আমরা শুধু গাছ-গাছালি লাগিয়েছে। এখন পুরো রাইন্যা টুগুনে ২১০ প্রজাতির অধিক উদ্ভিদ রয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল- পর্যটনশিল্প নিয়ে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে নতুন ধারণা দেয়া এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটনশিল্পের বিকাশে পর্যটকদের জন্য পরিবেশবান্ধব প্রকৃতি-প্রতিবেশের মধ্যে থাকা ও শেখার অভ্যাসতা গড়ে তোলা।
তিনি আরও বলেন, আমরা যখন যাত্রা শুরু করি তখন ইকো রিসোর্ট বলতে রাইন্য টুগুন-ই কেবল ছিল। বিশেষত অন্যদের এ বিষয়ে তেমন ধারণাও হয়তো ছিল না। বর্তমানে আমাদের রিসোর্টের আশেপাশেই ৫টির মতো ইকো রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। রাঙামাটি শহরের আশপাশ মিলেই ১০-১২টির ইকো রিসোর্ট রয়েছে। এতে করে বলা যায় যে, আমরা কিছুটা হলেও সফল হয়েছি। আমাদের ধারণাকে পর্যটন সেক্টরের উদ্যোক্তারা গ্রহণ করেছেন।

যাতায়াতের ব্যবস্থা: রাঙামাটি সদর উপজেলার জীবতলী ইউনিয়নের কামিলাছড়ি গ্রামে তৈরি রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্টটি জেলার কাপ্তাই উপজেলা লাগোয়া। রাঙামাটি জেলা শহরের আসামবস্তি-কাপ্তাই সংযোগ হয়ে কামিলাছড়ি পর্যন্ত রাইন্যা টুগুনের দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। তবে কাপ্তাই উপজেলার নতুন বাজার থেকে এর দূরত্ব কেবল ৫ কিলোমিটার। এক্ষেত্রে ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে যাতায়াতের জন্য কাপ্তাই উপজেলা পাড়ি দিয়ে রাইন্যা টুগুনে যাওয়াই উত্তম।

রয়েছে রাত্রিযাপনের সুযোগ: শুরুর দিকে থাকার ব্যবস্থাপনা না থাকলেও বিগত কয়েক বছর আগে ভিলা (কটেজ) তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে সেখানে ৪টি ভিলা রয়েছে। এছাড়া কেউ চাইলে তাবুতেও রাত্রিযাপন করতে পারবেন। রয়েছে তাবুতে থাকার জন্য একাধিক ক্যাম্পিং গ্রাউন্ড।
পড়ুন: রাঙামাটিতে চাকমা সার্কেল চিফ দেবাশীষ রায় নারীদের রক্ষায় সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ চোখ পড়েনি
এস/


