২০/০২/২০২৬, ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ
20 C
Dhaka
২০/০২/২০২৬, ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

রাঙামাটির সড়কে মাটি ধস : ডুবেছে রাস্তাঘাট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল

গত কয়েকদিন ধরে অনবরত টানা বর্ষণের ফলে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে দুর্যোগ পরিস্থিতির অবনতি ও ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা বাড়ছে। রোববার (১ জুন) জেলার কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। ভারি বর্ষণ ছাড়াও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে প্লাবন পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে। উজানের পানি ও বৃষ্টিতে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ছে। শনিবারের চেয়ে রোববার আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে। ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে ফসলি জমিরও।

বিজ্ঞাপন

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্গতদের আশ্রয়ে পুরো জেলায় ২৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে ৬৭২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। জেলায় ৫৩টি ঘরবাড়ির আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও প্রায় ৬৩ হেক্টর কৃষি জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেওয়াদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে রাতে আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে পারে বলে ধারণা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের।

এদিকে, টানা বৃষ্টির প্রভাবে জেলায় বড় পাহাড় ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টিপাতের কারণে রোববার রাঙামাটি-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের মঘাছড়িসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড় থেকে মাটি ধসে পড়েছে। সড়ক ও জনপথ তাৎক্ষনিক ধসে পড়া মাটি অপসারণে কাজ করছে। এতে করে চট্টগ্রামসহ খাগড়াছড়ির ও বান্দরবানের সঙ্গে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে জুরাছড়ির ও কাউখালী উপজেলার দুটি অভ্যন্তরীণ সড়ক বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ওই সড়ক দুটোতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে, জেলার বাঘাইছড়ি পৌরসভা এলাকা, জুরাছড়ি উপজেলা ও সদর উপজেলার সাপছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকল, নানিয়ারচর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি। ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন এইসব এলাকার মানুষ। তবে প্রশাসনের কাছে ঘরবন্দি মানুষের প্রকৃত তথ্য নেই। সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নে পাহাড়ি প্রায় ২০০টি পরিবার প্লাবিত হয়েছে।

জানতে চাইলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শিরীন আক্তার জানান, বাঘাইছড়ি পৌর এলাকার আশেপাশে কয়েকটি গ্রামে পানি উঠেছে। উপজেলার ৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে খোলা রাখা হয়েছে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজনের উপস্থিতি কম।

সদর উপজেলার ইউএনও রিফাত আসমা বলেন, সদর উপজেলায় সাপছড়ি ইউনিয়নে অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। প্রায় ২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর রাঙামাটি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, রাঙামাটি জেলার সড়কগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ১৫টি স্থানে ছোট ছোট মাটি ধসের ঘটনা ঘটেছে। সড়ক বিভাগ তাৎক্ষনিক সেগুলো অপসারণ করে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করে দিয়েছে। সড়কে যান চলাচল সচল রাখতে আমাদের টিম সবসময় কাজ করছে।

জানতে চাইলে রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ বলেন, ‘দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ হতে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলায় মোট ২৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আমাদের ইমারজেন্সি টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ হতে মাইকিং করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে আসার আহবান করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা লোকজনদের পর্যান্ত খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনোভাবে একটি প্রাণও ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, আমরা এটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এখন আমাদের কাজ হচ্ছে মানুষের জীবন বাঁচানো। আর তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি একটি আইনি প্রক্রিয়া, সেটি আইনের মাধ্যমে ঠিক করা হবে।

পড়ুন: টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জলাবদ্ধতা, ভেঙেছে বেড়িবাঁধ

দেখুন: টেকনাফে রোহিঙ্গাদের স*ন্ত্রাসে চরম আতঙ্কে স্থানীয়রা | 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন